২১ জুলাই গান্ধী মূর্তির পাদদেশেই নব্য তৃণমূলের শহিদ দিবস! প্রশাসনের অনুমতির দাবি, দলে বড় সাংগঠনিক রদবদলের ইঙ্গিত

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করার অনুমতি মিলেছে বলে দাবি নব্য তৃণমূলের। একইসঙ্গে দলের নেতৃত্বে বড় রদবদলের জল্পনা, সভাপতি পদে বিপ্লব মিত্র এবং কার্যকরী সভাপতি হিসেবে জাভেদ খানের নাম সামনে এসেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নব্য তৃণমূলের ২১ জুলাই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী ২১ জুলাই কলকাতার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শহিদ দিবস পালন করবে নব্য তৃণমূল এবং সেই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনিক অনুমতিও মিলেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শহিদ দিবসের কর্মসূচির পাশাপাশি নব্য তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। সূত্রের দাবি, বিপ্লব মিত্রকে দলের সভাপতি এবং জাভেদ খানকে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া যুব সংগঠন ও মহিলা সংগঠনেও নতুন নেতৃত্ব আনার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি হিসেবে দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি হিসেবে জাভেদ খান, মহিলা তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন এবং কার্যকরী সভাপতি হিসেবে শিউলি সাহা-র নাম চূড়ান্ত হতে পারে। তবে এই নিয়োগগুলির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

এর আগে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নব্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদের প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে মূলত সমাবেশের স্থান, প্রশাসনিক অনুমতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নব্য তৃণমূলের দাবি, প্রথমে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন ধর্মতলা এলাকায় সভা করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি না মেলায় বিকল্প স্থান হিসেবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করার আবেদন জানানো হয়। পরে সেই অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদি তৃণমূল এবং নব্য তৃণমূল—দুই পক্ষই ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের আবেদনই প্রশাসন খারিজ করে দেয়। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

এদিকে, ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলও। দলের জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-এর পক্ষ থেকে দায়ের করা আবেদনে ১৯ জুলাই থেকে মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি এবং ২১ জুলাই সভার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেই মামলার শুনানির দিকেও এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন