মোট পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে একটি বৈঠক করেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রায় তিন ঘন্টার কাছাকাছি চলে মেগা বৈঠক। এই বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকদের সিংহভাগ দাবিই মেনে নেয় রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার রাজ্যের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক পদে পরিবর্তন আনল নবান্ন।
জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সরিয়ে দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে মেনে নেওয়া হল আন্দোলনকারীদের আরও একটি দাবি। সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (ডিএইচএস) কৌস্তব নায়েক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা (ডিএমই) দেবাশীষ হালদারকে। রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্য অধিকর্তা হলেন স্বপন সোরেন। অন্যদিকে, নতুন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার নাম পরে জানানো হবে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দপ্তরের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে।
তবে জানা গিয়েছে, সদ্য প্রাক্তন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (ডিএইচএস) কৌস্তব নায়েককে ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউশনের অধিকর্তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকতা দেবাশীষ হালদারকে বদলি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জন স্বাস্থ্যের স্পেশাল অফিসার অন ডিউটি পদে।
পাঁচ দফা দাবি নিয়ে টানা সাত দিন ধরে সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে রয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা।দু’বার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর অবশেষে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে বৈঠক করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেখানেই তাঁদের দাবি ছিল কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডিসি নর্থ সহ একাধিক স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে অপসারণ করতে হবে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে নিয়ে রাজ্য প্রশাসনে বিরাট রদবদল। সরিয়ে দেওয়া হল কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে। কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হলেন মনোজ ভার্মা। অন্যদিকে, ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হল। সেই জায়গায় এলেন পশ্চিম শিলিগুড়ির ডিসি দীপক সরকার।



