প্রতিবছরের মতো এবারও বঙ্গে বর্ষা আসন্ন। আর এই বর্ষার সময় উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে, গঙ্গা, তিস্তা এবং মহানন্দা নদীর ভাঙন ঠেকাতে এবং বন্যার সম্ভাবনা মোকাবিলায় রাজ্য সেচ দফতর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যে, নবান্ন উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলার জন্য ৩৮ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে নদী ভাঙন, বাঁধ মেরামতি এবং নদী তটের সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। সেচ দফতর জানিয়েছে, নদীর ভাঙন ঠেকাতে বোল্ডার, বাঁশ, নেটের তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুত করা হবে। এর পাশাপাশি, বৃষ্টির জল যাতে জমে না থাকে, তার জন্য স্লুইস গেট পরিষ্কার এবং নদী বাঁধের রেইনকাট মেরামতের কাজও করা হবে।


উত্তরবঙ্গের মালদা, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং শিলিগুড়ি জেলার নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের জনগণের জীবনে কোনও সমস্যা না আসে। গত বছর উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা যেমন অতিবৃষ্টির কারণে বানভাসী হয়ে পড়ে এবং ধস নেমে বিপর্যয় ঘটে। সিকিমের লেক বিপর্যয়ের পর চুমুকডাঙ্গি, লালটং, টটগাঁও, ওদলাবাড়ি, ক্রান্তি, দোমোহনি, মিলনপল্লি, এবং বীরেন বস্তির মতো এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সুতরাং, এই বছর যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সেজন্য রাজ্য সরকার আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।
পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ জেলাগুলিও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ বছর ৩৭,৬৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ১১১টি ব্লকে ছড়িয়ে আছে।
এই পদক্ষেপে রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হল, উত্তরবঙ্গে দ্রুত এবং কার্যকরীভাবে বন্যা মোকাবিলা করা, যাতে স্থানীয় জনগণের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



