এসসি শংসাপত্রে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য, উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

তফসিলি জাতি শংসাপত্রে নিয়ম শিথিলের ভাবনা, যোগ‍্যশ্রী-শিক্ষাশ্রী প্রকল্প থেকে পাট্টা বিতরণ—সোশ্যাল মিডিয়ায় উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে এবার তফসিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে নবান্ন। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তফসিলি জাতি উন্নয়ন পর্ষদের রিভিউ বৈঠকে শংসাপত্রের নিয়ম শিথিল করার প্রস্তাব ওঠে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনওভাবেই তালিকায় না ঢোকে, সেদিকেও কড়া নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই বৈঠকে তফসিলি জাতিভুক্ত মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ-সহ রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যোগ‍্যশ্রী ও শিক্ষাশ্রী প্রকল্প যাতে প্রতিটি যোগ্য পরিবার ও ছাত্রছাত্রীর কাছে পৌঁছায়, সেই প্রচার আরও বাড়াতে হবে।

Shamim Ahamed Ads

এসসি শংসাপত্রে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য, উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

এসসি শংসাপত্রে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য, উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
এসসি শংসাপত্রে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য, উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

মতুয়া উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আবেদন
বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘ নেত্রী মমতাবালা ঠাকুর জানান, মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড দেড় বছর ধরে অচল। দ্রুত তা চালুর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখেন তিনি। পাশাপাশি, বাগদায় তৈরি ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের নামে নির্মিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলটি এখনও চালু হয়নি, সেটি দ্রুত শুরু করারও অনুরোধ জানান।

এছাড়াও মালদহে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বাস্তু মানুষদের পাট্টা প্রদানের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মমতাবালা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সমস্ত বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মা-মাটি-মানুষের সরকার এসসি সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য West Bengal Scheduled Caste Advisory Council গঠন করেছে। ২০১০-১১ সালে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের বাজেট ছিল ১৬০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৬১ কোটি টাকায়।”

তিনি আরও জানান, গত ১৪ বছরে ৯৯ লক্ষ ৯১ হাজারেরও বেশি এসসি শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। মোট জাতিগত শংসাপত্র (এসসি, এসটি ও ওবিসি) দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লক্ষেরও বেশি। আবেদন করার পর শংসাপত্র দেওয়ার সময়সীমা ৮ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ৪ সপ্তাহ করা হয়েছে।

স্কলারশিপ ও হস্টেল প্রকল্প
‘শিক্ষাশ্রী’ প্রকল্পে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির এসসি-এসটি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বছর ৮০০ টাকা স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী এই সুবিধা পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এসসি ছাত্রছাত্রীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ বিতরণ করা হয়েছে। ৩৪টি গার্লস হস্টেল, ১২টি বয়েজ হস্টেল, ২৮টি সেন্ট্রাল হস্টেল ও ৯৭টি আশ্রম হস্টেল চালু হয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ছাত্রছাত্রীকে হস্টেল সুবিধা প্রদানে ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

নবান্নের বার্তা স্পষ্ট—তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প শুধু চালু নয়, কার্যকরও করতে হবে। এসসি শংসাপত্রে নতুন পদক্ষেপ সেই পথকেই আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত