নজরবন্দি ব্যুরো: রাজপথে খেলা ঘোরাল মীনাক্ষী-দীপ্সিতারা, হাল ফেরাতে প্রস্তুত লালের নব প্রজন্ম! যে মুখ্যমন্ত্রী গত ১১ বছরে বুঝিয়েছেন বেকারত্বের জ্বালা, যে মুখ্যমন্ত্রী নিজের অপছন্দের ঘটনাকে মুহূর্তে ছোট ঘটনা বলেছেন ১১টা বছর ধরে, তাঁদের একবার দেখতে চেয়েছিলো বাম যুব সম্প্রদায়। আর দেখতেই পূর্ব ঘোষণা মতো আজকে কলেজ স্ট্রিট থেকে নীল – সাদা বাড়ি পর্যন্ত অভিযান চালালে DYFI এবং SFI।
আরও পড়ুনঃ তথ্য গোপনের গুরুতর মামলা! সাংসদ পদ খোয়াতে পারেন অর্জুন সিং?
স্লোগান উঠলো হাওড়া ব্রিজ থেকে মৌলালি, পতাকা উড়লো, জলকামান ধেয়ে এল, লাঠি পেটা নয়, হাজার হাজার মানুষকে কাঁদতে গ্যাস ছোড়া হলো মাননীয়ার নীল সাদার সামনে,পুলিশ এলো, উঠিয়ে নিয়ে গেলো,কেউ কেউ গেলো হাসপাতালেও। আর সব মিলিয়ে সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত দফায় দফায় চমক লাগলো বাংলার ৭% ভোটের যুব সংগঠন। আর বাংলার মাননীয়ার ব্যারিকেড ভাঙলো মীনাক্ষী দীপ্সিতারা।

বাংলায় কার্যত বাম ব্রিগেড থেকে সভা মঞ্চ, মানুষ অভ্যস্থ ছিল লাল পতাকা আর পাকা মাথার মানুষের মুখে মেহনতি মানুষের কথা শুনতে। দিন বদলাচ্ছে। উন্নততর বামেদের মিছিলে আজ হাওড়া ছেয়েছিল সাদা পতাকা আর কালো মাথায়। জবাব চাইতে আজ হাজার হাজার মানুষ পা মিলিয়েছিলেন অভিযানে। আর পরিচিত- অপরিচিতের ভিড়ে সারাদিন ধরে পুলিশ থেকে জলের সামনে ঠিক সময়ে এসে আগলে নিলেন একঝাঁক মেয়ে। সারাদিন ধরে রাজপথ দাপিয়ে বেড়ালেন মেয়েরা।
রাজপথে খেলা ঘোরাল তাঁরা, DYFI এর রাজ্য সভানেত্রী এবং SFI এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদিকা দীপ্সিতা বা, পশ্চিম বর্ধমানের মীনাক্ষী। খেলা ঘোরানোর সূচনায় খেললেন তাঁরা আজ সারা রাস্তা জুড়ে। তাঁদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে আরো অগুনতি। একাধিক ছবিতে দেখা গেছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল কামান থেকে কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁজ আগলে নিয়েছেন নিজেদের তেজ দিয়ে। আগলে রেখেছেন যতটা সম্ভব সকলকে। অনেকদিন পর বাংলা দেখলো প্রত্যাবর্তনের ঝাঁজ। ফিরে আসতে চাইলে যে শুরুটা এভাবেই করতে হয়, আচমকা চমকে দিতে হয় প্রশাসনকে, ১১ বছরে যে আত্মবিশ্বাস মরেনি, উল্টে হাজার বীজ তৈরি করেছে ভিতরে ভিতরে তা আজ দেখেছে শহর কলকাতা।
আজ সারাদিনের কর্মকাণ্ডতেই দমেননি তাঁরা। আজকের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় আগামী কাল ১২ বাংলা বনধ ডেকেছে বামেরা। বামেদের এই হরতাল কে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আব্বাস সিদ্দিকিও। সকলকে এই হরতাল সমর্থনের আওহান জানিয়েছেন CPM এর পলিটব্যুরোর সদস্যরা। বিবৃতি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে অধীর চৌধুরীও।
তবে আজকের মতোই পরিকল্পনা তৈরি রাজ্য সরকারের। হরতালের বিপরীতে তৈরি সরকার। জোর করে দোকান পাট থেকে সাধারণ জীবন বন্ধ করতে দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সচল রাখতে অতিরিক্ত বাস নামছে রাস্তায়। হরতালের নামে অপ্রীতিকর কাজের মোকাবিলায় কাল মাঠে নামছে প্রায় ৩৫০০ হাজার পুলিশ কর্মী। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে রাজ্যের তরফ থেকে।



