গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত মায়ানমারে ফের বড়সড় বিপর্যয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়ংকর বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক বাড়িঘর, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার মায়ানমারের শান প্রদেশের নামখান জেলার কাওংটাট গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে বিদ্রোহী সংগঠন তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ভবনে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক থেকে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে।


বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, খনি এলাকায় পাথর কাটার কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দুর্ঘটনাবশত ফেটে যাওয়াতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয় এবং বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৫ জন মহিলা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ৭০ জনেরও বেশি আহতকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে অনেকেই এটিকে বিমান হামলা বলে সন্দেহ করেছিলেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তবে পরে টিএনএলএ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানায়, এটি কোনও হামলা নয়, বরং দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ।


উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশজুড়ে অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। সামরিক জান্তা এবং বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠনের সংঘর্ষে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নতুন এই বিস্ফোরণ ফের একবার মায়ানমারের অস্থির পরিস্থিতিকে সামনে এনে দিল। গৃহযুদ্ধের আবহে এমন একটি দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই বাড়াল না, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



