অর্ক সানা: লক্ষ্য বাংলার ক্ষমতা দখল, বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদে বসানো হতে পারে মুকুল রায় কে! বিজেপি ব্যাবহার করছে সম্মান দিচ্ছে না, ফের তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়? গত কয়েকদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। কারন কদিন আগে যা ঘটেছে তাতে সেই সন্দেহই দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। ৩ দিন আগে মুকুল রায়ের দিল্লির বাস ভবন থেকে হটাৎই উধাও হয়ে যায় মোদি-অমিত শাহের ব্যানার! মুকুল অনুগামীদের দাবি নাকি দিল্লীর ঝড়ে উড়ে গিয়েছে সব। যদিও ব্যাপারটা যে এমন নয় তাঁর খোঁজ মিলেছে পরে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ভয়ানক করোনা সংক্রমণ কে টেক্কা দিচ্ছে স্বস্তিজনক সুস্থতার হার। #Exclusive


বিজেপি সূত্রে খবর পাওয়া যায় মুকুল রায়ের সাথে তীব্র বাদানুবাদ হয় দলের শীর্ষ নেতাদের। তাঁর দাবি ছিল রাজ্য বিজেপি তে একটি শীর্ষ পদ অথবা কেন্দ্রিয় মন্ত্রীত্ব। সূত্রের খবর তিনি বিজেপি শীর্ষ নেতাদের এমন কথাও বলেছেন যে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপি তে সরিয়ে আনবেন। এবং দূর্বল করে দেবেন তৃণমূল কে। কিন্তু রাজ্য বিজেপি-তে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বা কেন্দ্রিয় মন্ত্রীত্ব, মুকুল রায়ের দুটো প্রস্তাবের কোনটি দিতেই রাজি হননি বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারা। সবথেকে বেশি এই বিষয়ে আপত্তি করেন দিলীপ ঘোষ। এবং সেই বাদানুবাদের ভিত্তিতেই একপ্রকার অভিমান করে দিল্লীর বৈঠক ফেলে রেখে কলকাতায় ফিরে আসেন মুকুল রায়। মুকুল রায় আচমকা দিল্লি ফিরে আসার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপিতে ব্যাক্তির থেকে দল বড়।
দিলীপ ঘোষের কথা অনুযায়ী, “মুকুলদা আমাদের জানিয়েই কলকাতা গিয়েছেন। আমাদের দলের গুরুত্বটাই আসল, কোনও ব্যক্তির নয়। দল যাকে যে ভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করে, তাকে সেই ভাবে কাজে লাগায়।’’ অন্যদিকে মুকুলের ১৮১ দিল্লীর বাস ভবন থেকে এদিন সরিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি নেতাদের যাবতীয় পোস্টার, কাট আউট। মুকুল রায় শিবিরের দাবি সব কিছুই নাকি ঝড়ে উড়ে গিয়েছে। যদিও দিল্লিতে যা ঝড় হয়েছে তাতে ১০০ শতাংশ ব্যানার পোষ্টার উড়ে যাওয়ার কথা নয়। কারন কোন ব্যানার বা পোস্টারের চিহ্ন মাত্র নেই।
অন্যদিকে কলকাতায় ফিরে মুকুল রায় জানান তিনি চোখের চিকিৎসা করাতেই মাঝপথে ফিরে এসেছেন দিল্লী থেকে। যদিও সূত্রের দাবি, রীতিমত বিরক্ত এবং মনঃক্ষুণ্ণ হয়েই মুকুল রায় এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বিজেপি সূত্রে খবর খুব শিগগিরই মুকুল জট খুলবে কারন সামনে বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে। সেই নির্বাচনে মুকুল রায়ের ভোট স্ট্র্যাটেজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই কোন নির্দিষ্ট পদ বা মন্ত্রীত্ব না দেওয়া হলেও মুকুল রায় কে নির্বাচন করানোর বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।


লক্ষ্য বাংলার ক্ষমতা দখল, বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদে মুকুল রায়! কলকাতায় ফিরে আসার পর মুকুল রায় কে ফের কলকাতা থেকে দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর আগামী ৩১শে জুলাই শুক্রবার অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডা বৈঠক করবেন মুকুল রায়ের সাথে। দিলীপ ঘোষের আপত্তির কারনে রাজ্য বিজেপি তে শীর্ষ পদ না দেওয়া হলেও তাঁকে দেওয়া হতে পাশে সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ সাথে রাজ্যের নির্বাচন কমিটির প্রধানের পদও। সূত্র জানিয়েছে মুকুল রায় কে অগ্নি পরীক্ষার সামনে ফেলা হচ্ছে। মুকুল কে বিজেপির শীর্ষ পদে বসানোর একটাই উদ্দেশ্য। যেন তেন প্রকারেণ রাজ্যে ক্ষমতায় আনতে হবে বিজেপি কে! আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মুকুল রায় কে সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত করবে বিজেপি। অন্যথায় তৃণমূলে ফিরবেন মুকুল এমন শর্তই নাকি রাখা হয়েছে মুকুল শিবিরের পক্ষ থেকে!








