প্রতি সোমবার শিবলিঙ্গে কালো তিল নিবেদন করলে কী ফল মেলে? জেনে নিন সঠিক পুজোর নিয়ম, এড়িয়ে চলুন এই ভুলগুলি

সোমবার শিবলিঙ্গে কালো তিল নিবেদন কেন শুভ বলে মনে করা হয়? জ্যোতিষ মতে এর উপকারিতা, শাস্ত্রীয় পুজোর নিয়ম, মন্ত্র এবং কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সোমবার শিবলিঙ্গে কালো তিল নিবেদন করার রীতি বহুদিনের। জ্যোতিষশাস্ত্রের (Astrology) মতে, এই উপাচার শনির অশুভ প্রভাব প্রশমিত করতে, রাহুর কারণে তৈরি হওয়া বাধা কমাতে এবং পিতৃদোষের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে শুধু তিল অর্পণ করলেই হবে না, শাস্ত্রসম্মত নিয়ম মেনে পুজো করলেই তবেই এর পূর্ণ ফল পাওয়া যায় বলে মনে করেন আচার্যরা।

সনাতন ধর্মে (Sanatan Dharma) শিবলিঙ্গে (Shivling) জল, দুধ, বেলপাতার পাশাপাশি কালো তিল নিবেদনও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে শনির সাড়েসাতি, ঢাইয়া, মহাদশা বা অন্তর্দশা চলছে, তাঁদের জন্য এই উপাচার শুভ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, মহাদেবের কৃপায় শনিজনিত বাধা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে।

জ্যোতিষমতে, কালো তিল শনিগ্রহের প্রতীক। তাই সোমবার বা শনিবার শিবলিঙ্গে কালো তিল অর্পণ করলে শনিদেবের কুপ্রভাব কমে এবং জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে রাহুর অশুভ প্রভাব, মানসিক অস্থিরতা এবং কালসর্পদোষ সংক্রান্ত সমস্যাও কমতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

শাস্ত্রে কালো তিলের সঙ্গে পিতৃপুরুষের সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণেই অনেকেই মনে করেন, শিবলিঙ্গে তিল নিবেদন করলে পিতৃদোষের প্রভাব হ্রাস পায় এবং পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করা যায়। পাশাপাশি অহেতুক ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক অশান্তি কমাতেও এই পুজো উপকারী বলে বিশ্বাস রয়েছে।

পুজোর জন্য সোমবার ও শনিবারকে সবচেয়ে শুভ দিন হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া অমাবস্যা, প্রদোষ ব্রত কিংবা মহাশিবরাত্রির দিনেও কালো তিল দিয়ে মহাদেবের আরাধনা বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।

পুজোর আগে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত। সম্ভব হলে সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরেই শিবপুজোয় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর একটি তামা বা পিতলের পাত্রে পরিষ্কার জল অথবা গঙ্গাজলের সঙ্গে সামান্য কালো তিল এবং এক ফোঁটা কাঁচা দুধ মিশিয়ে শিবলিঙ্গে ধীরে ধীরে অভিষেক করতে হয়।

অভিষেকের সময় একাগ্রচিত্তে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ অথবা ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করলে তা শুভ বলে মনে করা হয়। যদি সরাসরি তিল নিবেদন করতে চান, তবে জল ঢালার পরে ডান হাতের অনামিকা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে এক চিমটি ভেজা বা কাঁচা কালো তিল শিবলিঙ্গের উপর অর্পণ করা যেতে পারে।

কালো তিলের পাশাপাশি মহাদেবের প্রিয় বেলপাতা, আকন্দ ফুল কিংবা ধুতুরা নিবেদন করলে পুজো আরও সম্পূর্ণ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। পুজো শেষে শিবের চরণে প্রণাম করে জীবনের কষ্ট, শনি ও রাহুর অশুভ প্রভাব দূর করার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা করারও রীতি রয়েছে।

তবে এই পুজোয় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন। শুকনো শিবলিঙ্গের উপর সরাসরি শুকনো তিল ছড়ানো উচিত নয়। সবসময় জল বা দুধ নিবেদনের পরে আর্দ্র অবস্থায় তিল অর্পণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুজোয় ব্যবহৃত তিল অবশ্যই পরিষ্কার ও ভালো মানের হতে হবে। পচা বা বাসি তিল ব্যবহার করা শাস্ত্রসম্মত নয়।

এছাড়া কালো রঙের পোশাক এড়িয়ে চলা, মনে রাগ বা বিদ্বেষ না রেখে পুজোয় বসা এবং অযথা বেশি পরিমাণ তিল অপচয় না করার কথাও বলা হয়েছে। একটি ঘটির জলে এক চিমটি কালো তিলই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

পুজো শেষে শিবলিঙ্গ প্রদক্ষিণের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মও মানা প্রয়োজন। যে দিক দিয়ে অভিষেকের জল বেরিয়ে যায়, সেই পথ অতিক্রম না করে অর্ধ-পরিক্রমা করেই ফিরে আসার বিধান রয়েছে। ভক্তিভরে এবং শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে এই উপাচার পালন করলে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভের আশা করেন অসংখ্য ভক্ত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন