আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বড় মন্তব্য করলেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারতে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষই ‘হিন্দু’—তবে ধর্মীয় অর্থে নয়, বরং সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দিক থেকে। এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সুর উঠেছে।
মুম্বইয়ের ওরলির নেহরু সেন্টারে ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “হিন্দু কোনও বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ, যা ভারতের সাংস্কৃতিক প্রকৃতিকে বোঝায়। আপনি যদি ভারতীয় হন, তবে এই প্রকৃতি আপনার মধ্যেই রয়েছে।” তাঁর দাবি, মুসলমান ও খ্রিস্টানরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভারতীয় সমাজের অংশ হিসেবেই তাঁদের দেখা উচিত।
ভাগবত বলেন, ভারতের বিশ্ব নেতৃত্ব গড়ে উঠবে কথার মাধ্যমে নয়, বরং উদাহরণ তৈরি করে। তিনি দেশের হিন্দুদের চারটি ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা দেন—
প্রথম, যারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের হিন্দু পরিচয় দেন।
দ্বিতীয়, যারা নিজেদের হিন্দু বলে স্বীকার করলেও এতে বিশেষ কিছু দেখেন না।
তৃতীয়, যারা কেবল ব্যক্তিগত পরিসরে পরিচয় নিয়ে কথা বলেন।
চতুর্থ, যারা নিজেদের হিন্দু পরিচয় ভুলে গিয়েছেন বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে সংঘপ্রধান বলেন, ধর্মের ভিত্তিতেই দেশভাগ হয়েছিল এবং তা “হিন্দু ভাবনার ক্ষয়ের” ফল। তাঁর দাবি, ভারত সব ধর্মকে সম্মান করে কারণ তার সভ্যতাগত ভিত্তি হিন্দু সংস্কৃতিতে নিহিত।
হিন্দুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি গ্রহণ করতে কাউকে নিজের ধর্ম, ভাষা বা সংস্কৃতি ত্যাগ করতে হয় না। তাঁর বক্তব্য, “হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে আপনি কিছুই হারাবেন না—না আপনার ধর্মীয় রীতি, না ভাষা। হিন্দুত্ব নিরাপত্তার গ্যারান্টি।”
ভাগবতের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিশ্বাস বা ভাষা ভিন্ন হতে পারে, তবু তারা একটি সমাজ ও একটি জাতির অংশ। “আমরা একে হিন্দুত্ব বলি, আপনি একে ভারতীয়তা বলতে পারেন,”—এই মন্তব্যও করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলিম ঐক্য” শব্দবন্ধটিই বিভ্রান্তিকর, কারণ এতে বিভাজনের ধারণা নিহিত থাকে।
সমালোচকদের উদ্দেশে ভাগবতের বক্তব্য, আরএসএসকে প্রচারের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বোঝা উচিত। “তথ্যের ভিত্তিতে আপত্তি থাকলে আমরা নিজেদের সংশোধন করব, কিন্তু তথ্য জানতে হলে আপনাদের আমাদের কাছে আসতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা সালমান খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই ও গীতিকার প্রসূন যোশী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। দুই দিনের এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য, শতবর্ষের প্রাক্কালে আরএসএসের পথচলা, সমাজে ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা।



