দেড় কোটির চেক বাউন্সের জেরে বড় সিদ্ধান্ত! সভাপতি পদ হারালেন হুমায়ুন কবির, নতুন নেতৃত্বে মহমেডান ক্লাব

দেড় কোটি টাকার চেক বাউন্স, ২৫ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ এবং বিতর্কিত মন্তব্য— সব মিলিয়ে জরুরি বৈঠকে হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করল মহমেডান স্পোর্টিং।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan Sporting Club)-এ টানা কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দেড় কোটি টাকার চেক বাউন্স এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগের জেরে সভাপতি পদ থেকে বরখাস্ত করা হল হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)-কে। বৃহস্পতিবার জরুরি কার্যকরী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে গজল জাফর (Ghazal Jafar)-কে ক্লাবের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ছিল। ক্লাব সূত্রে জানা যায়, সভাপতি হওয়ার পর তিনি মহমেডানের উন্নয়ন এবং ট্রান্সফার ব্যান কাটাতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

- Advertisement -

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন হুমায়ুন কবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো ৫০ লক্ষ টাকা করে তিনটি চেক, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি টাকার চেক, ব্যাংকে বাউন্স করে। এরপরই ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্তত আংশিক অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে সেই সময়সীমা পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram) সংবাদমাধ্যমকে জানান, হুমায়ুন কবির প্রকাশ্যে ক্লাব কর্তাদের নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন, যা কার্যকরী কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করা হলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হুমায়ুনের কোনও যোগাযোগ ছিল না। ফোন বা বার্তার মাধ্যমেও তিনি কোনও ব্যাখ্যা দেননি।

বৃহস্পতিবারের জরুরি বৈঠকে কার্যকরী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একই বৈঠকে গজল জাফরকে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্লাবের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ জুন মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন হুমায়ুন কবির। মাত্র দু’মাসের মধ্যেই সেই দায়িত্ব হারাতে হল তাঁকে। বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর ক্লাবের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে এবং সেই সময়ই তাঁর হাতে সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddique)-র আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ক্লাব কর্তারা হুমায়ুন কবিরের উপরই আস্থা রেখেছিলেন।

- Advertisement -

তবে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা বাস্তবায়িত না হওয়া এবং সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই আস্থা আর বজায় থাকেনি। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে এখন মহমেডান স্পোর্টিংয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং ক্লাবের উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বাংলা ফুটবল মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর