নজরবন্দি ব্যুরো: একটানা তিন দফায় ৫৭৫ দিন ধরে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরি প্রার্থীরা। পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক, গ্রুপ ডি সহ একাধিক পদের চাকরি প্রার্থীরা। যা ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন সিপি(আই)এমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সুবীরেশ, আদালতকে জানাল সিবিআই


এদিন তিনি বলেন, ৫৭৫ দিন। মানুষের ধৈর্য রয়েছে। মিথ্যাচার, প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেছে। তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। কারণ, তাঁদের পদ গুলো নিলাম করে বিক্রি করা হয়েছে। তার টাকা উদ্ধার হচ্ছে। একজন মন্ত্রীর লোকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকা। আরও অন্যান্য এমএলএ ও এমপি জড়িত রয়েছে। তৃণমূলের নেতারা জরিত রয়েছে।
সিবিআই, ইডিও এখন গো স্লো চলছে। আমি জানিনা কজন আমন্ত্রিত ছিল কার্নিভ্যালে। এজেন্ডা পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর ওই জন্যই দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পরিষ্কার কথা, বো ফারজি মুদ্দে লাতে রাহেঙ্গে। হাম আসলি মুদ্দে লাতে রাহেঙ্গে। যে দুর্নীতি হয়েছে অপরাধীদের শাস্তি চাই। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সমস্ত টাকা উদ্ধার করতে হবে। চোরদের জেলে পুড়তে হবে। অবিলম্বে যাদের যা প্রাপ্য, তাঁদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করছেন, কখনও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নামে, কখনও হাইকোর্টের নামে দোষ চাপাচ্ছেন। কদিন আগেই বলেছিলেন, মানবিক মুখ নিয়ে কথা বলেছেন, নিয়োগ দিয়ে দেবেন। আপার টেট প্রাইমারি থেকে আপার প্রাইমারি সকলেই ধর্নায় বসেছেন। আজ ৫৭৫, আজ থেকে ২৫ দিন। ৬০০ দিন যাতে না এদের বসতে হয়। আমরা ৫০০ দিনে গিয়েছিলাম। সমস্ত মানুষকে বলব কার্নিভ্যাল নিয়ে হই হুল্লোড় নয়, এই অসহায় ছেলে মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এদের নিয়োগ আদায় করে ছাড়তে হবে।


সিবিআই ও ইডি এখন গো স্লো চলছে, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক সেলিম

যেখানে এদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে যারা এদের চাকরি নিলাম করেছে, লুঠ করেছে, চুরি করেছে, সে অফিসার হোক, তৃণমূলের নেতারাই হোক, তাঁদের গ্রেফতার করতে হবে। মানুষের ধৈর্যের অনেক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সরকার কোনও তাঁর মানবিক মূল্যবোধ নেই। এখনও আন্দোলনকারীরা দায়িত্ব বোধ পালন করছে। এর পরে কিছু ঘটলে সরকারকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। পুজোর পরে কার্নিভ্যালের দিন আন্দোলন স্থগিত রাখেন চাকরি প্রার্থীরা। কিন্তু তার পরেও আন্দোলনে যোগদান করে সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তাঁরা। সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবু শিক্ষকরা এখন সরকারি নিয়োগের আশায় দিন কাটাচ্ছেন।







