ভারতীয় ক্রিকেটে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মহম্মদ সামি। সম্প্রতি BCCI ও নির্বাচক কমিটির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ইংল্যান্ড সফর সামনে রেখে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞ পেসারের দিকে তাকিয়ে ছিল, তখনই প্রস্তুতি ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্তে চর্চা শুরু হয় ক্রিকেট মহলে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামি নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁকে নাকি নির্বাচকরা কোনওভাবে যোগাযোগ করেননি। তাঁর কথায়, “কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। নির্বাচকরা যদি যোগাযোগ করতেন, আমি আলোচনা করতে রাজি ছিলাম।” কিন্তু এবার বিসিসিআইয়ের এক কর্তা জানালেন একেবারে উল্টো তথ্য।


বিসিসিআই কর্তার বক্তব্যে নতুন মোড়
ওই কর্তার দাবি, “জাতীয় নির্বাচক ও বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স থেকে সামির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁকে প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ইংল্যান্ড সফরে বুমরার ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিজ্ঞ সামির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি নিজেই খেলতে অস্বীকার করেন।”
বোর্ড সূত্রে খবর, সামিকে ভারতীয় ‘A’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ক্যান্টারবেরি বা নর্দাম্পটনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর ফিটনেস যাচাই করা এবং টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুত কি না, তা দেখা। কিন্তু সামি নাকি জানিয়ে দেন, বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত ওয়ার্কলোড নিতে প্রস্তুত নন।
ফিটনেস রিপোর্ট নিয়েও জল্পনা
বোর্ডের একটি স্পোর্টস সায়েন্স টিমের কাছে সামির বর্তমান ফিটনেস রিপোর্টও রয়েছে বলে সূত্রে খবর। সেই রিপোর্টে উল্লেখ আছে, দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁকে খেলানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এই দাবি কতটা সত্য, তা নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি সামি বা তাঁর ম্যানেজমেন্ট।


রঞ্জি ট্রফিতে ৯৩ ওভার বল করার পরও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এই তারকা পেসার। নির্বাচকদের “অসংবেদনশীল আচরণ”-এর কথাও বলেন তিনি। যদিও নির্বাচকরা দাবি করছেন, সামি যদি প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যাচে অংশ নিতেন, তাহলে ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দেখা যেত।
ক্রিকেট মহলে বাড়ছে কৌতূহল
এই ঘটনার পর এখন প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন সিরিজে সামির জায়গা হবে কি না। অনেকে মনে করছেন, ফিটনেস প্রমাণ ছাড়া তাঁকে দলে ফেরানো কঠিন। আবার অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, অভিজ্ঞতার জন্য তাঁকে উপেক্ষা করা বড় ভুল হতে পারে।
সব মিলিয়ে মহম্মদ সামি বিতর্ক এখন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত বিষয়। নির্বাচক কমিটি ও বোর্ডের মধ্যে তথ্যের পার্থক্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে স্বচ্ছতা নিয়ে। আগামী দিনে সামি নিজে এই নিয়ে কী বলেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







