মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে যখন বিশ্ব বিভক্ত, তখন ভারতের অবস্থান নিয়ে জোরালো বিতর্ক—ঠিক সেই সময়ই কৌশলী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন Narendra Modi—“আমরা কারও পক্ষ নই, আমরা ভারতের পক্ষেই।”
সোমবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আজ যখন বিশ্ব একাধিক শিবিরে বিভক্ত, ভারত তখন সেতুবন্ধনের ভূমিকা নিয়েছে। আমরা সকল দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখছি।”


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি আসে এখানেই। বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে মোদি বলেন,
“অনেকে জানতে চান আমরা কার পক্ষে। আমার উত্তর—আমরা ভারতের পক্ষে। আমরা শান্তির পক্ষে, আমরা আলোচনার পক্ষে।”
উন্নয়ন থামেনি, বার্তা দিলেন মোদি
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যুদ্ধের আবহেও দেশের উন্নয়ন থামেনি। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বে কোথাও যুদ্ধ হলে তার প্রভাব পড়ে সবার উপর, কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও ভারত নিজের অগ্রগতি ধরে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, কোভিড মহামারির সময় যেমন দেশ একসঙ্গে লড়েছিল, তেমনই বর্তমান পরিস্থিতিতেও ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন।


কংগ্রেসকে তোপ
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করতে ছাড়েননি মোদি। তাঁর অভিযোগ,
- কংগ্রেস আমলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল
- অয়েল বন্ড জারি করে ভবিষ্যতের উপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল
- বিদ্যুৎ নীতিতেও ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকার সেই ‘পাপের ফল’ বহন করেছে গত কয়েক বছর ধরে।
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। Iran-কে ঘিরে চলা সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলছে। পাশাপাশি United States-এর সামরিক ক্ষয়ক্ষতিও সামনে এসেছে।


Israel-এর গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনাগার ও বিভিন্ন জ্বালানি ভাণ্ডারে হামলার খবর মিলেছে। অন্যদিকে, Strait of Hormuz কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা
সব মিলিয়ে, মোদির বক্তব্যে স্পষ্ট—ভারত সরাসরি কোনও পক্ষ নিচ্ছে না। বরং শান্তি, সংলাপ ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোতে চাইছে।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের স্বাধীন ভূমিকারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।







