মধ্যপ্রাচ্যের জ্বলন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই চাঞ্চল্যকর মোড়—নিজের সিদ্ধান্তের দায় কি এড়াতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? প্রায় একমাস ধরে চলা সংঘাতে বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত, তখনই প্রকাশ্যে প্রতিরক্ষা সচিবের দিকে আঙুল তুলে বিতর্ক উসকে দিলেন Donald Trump।
সোমবার এক বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth-এর উপর ইরানে হামলার দায় চাপান। তাঁর মন্তব্য,
👉 “পিট, তুমিই তো প্রথম বলেছিলে ইরানে হামলা করা উচিত। তুমি চাইনি ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র আসুক।”
এই মন্তব্যের সময় হেগসেথ তাঁর পাশেই থাকলেও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে—বিশ্বজোড়া সংকটের দায় কি এখন অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন ট্রাম্প?
প্রশাসনের ভিতরেই মতভেদ
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রশাসনের ভিতরেই ইরানে হামলা নিয়ে বিভক্ত মত ছিল। অনেকেই সরাসরি এই সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন।
JD Vance-ও নাকি বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে ছিলেন না। অন্যদিকে, কিছু অংশ মনে করে—ইরানের পরমাণু ক্ষমতা রুখতেই এই হামলা প্রয়োজন ছিল।
অর্থাৎ, কেন হামলা, কতদিন চলবে অভিযান—এসব প্রশ্নে আমেরিকার ভেতরেই স্পষ্ট ঐকমত্যের অভাব ছিল।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব
এই সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে। Iran-এর উপর হামলার পর থেকেই জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে পালটা আঘাত হেনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তেল ভাণ্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইরান। পাশাপাশি Strait of Hormuz-এ অচলাবস্থার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে।
‘সহজ অভিযান’ এখন দীর্ঘ যুদ্ধ
শুরুতে ট্রাম্প হালকা সুরে বলেছিলেন—
👉 “চল কয়েক দিনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে একটা বড় সমস্যার সমাধান করে আসি।”
কিন্তু সেই ‘কয়েক দিনের’ অভিযান এখন প্রায় মাস পেরিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। একের পর এক শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েও ইরান পালটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা আমেরিকার হিসেবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন স্পষ্টতই চাপে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, আন্তর্জাতিক সমালোচনাও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সচিবকে সামনে রেখে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।



