ওষুধের দোকানে এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সম্বলিত পোস্টার লাগানো বাধ্যতামূলক!
এই নির্দেশ ঘিরেই তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের (CDSCO) নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, কিছু ওষুধে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সেই পরিবর্তনের কথা ক্রেতাদের জানাতে প্রতিটি পাইকারি ও খুচরো ওষুধের দোকানে পোস্টার বা ব্যানার লাগাতে হবে— যেখানে থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি।
কেন্দ্রের নির্দেশে বলা হয়েছে, “কিছু ওষুধে জিএসটি কমে ৫ শতাংশ হয়েছে, ক্যানসারের ওষুধে জিএসটি শূন্য করা হয়েছে।” সেই সঙ্গে ব্যানারে থাকবে আরও কিছু পণ্যের উল্লেখ— শুকনো খাবার, মেডিক্যাল ডিভাইস, চশমা, কন্ট্যাক্ট লেন্স, জিমের যন্ত্রপাতি ও জুসের দাম কমার তথ্য। এই ব্যানারগুলি টাঙিয়ে রাখতে হবে টানা ১০০ দিন ধরে।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা মহল। প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন-এর সম্পাদক ডা. করবী বড়াল বলেন, “ওষুধে জিএসটি চাপিয়েছিল কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার প্রতিবাদ করেছেন। এখন সামান্য কমিয়ে সেই সিদ্ধান্তের প্রচার করতে পোস্টারে মোদির ছবি ব্যবহার করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতিনিধি। জিএসটি কমানো কেন্দ্রের প্রশাসনিক কাজ— তার জন্য রাজনৈতিক প্রচার চলা উচিত নয়।”
ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নও এই সার্কুলারের কড়া সমালোচনা করেছে। সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পার্থ রক্ষিত বলেন, “এটি কার্যত সরকারি অর্থে রাজনৈতিক প্রচার। ওষুধের জিএসটি কমানো আমজনতার স্বার্থে নয়, বরং রাজনৈতিক চমক তৈরির জন্য।”
পার্থ রক্ষিতের দাবি, “জীবনদায়ী ওষুধে জিএসটি বসানোই গর্হিত অপরাধ ছিল। এখন কিছুটা কমিয়ে প্রচার চালানো কেন্দ্রের রাজনৈতিক কৌশল।”
বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পৃথ্বী বসু জানান, “আমরা সার্কুলার পেয়েছি এবং তা রিটেলারদের জানানো হয়েছে। তবে পোস্টারে মোদির ছবি নিয়ে বিতর্ক আমাদের নজরে এসেছে।”
রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ১ লক্ষ ১০ হাজার ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি আউটলেটেই ১০০ দিনের জন্য এই পোস্টার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, GST Reduction Poster Controversy এখন দেশের নতুন আলোচ্য বিষয়। সরকারের দাবি, জনগণকে সুবিধার কথা জানানোই মূল উদ্দেশ্য; অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, এটি কেন্দ্রের একধরনের hidden political campaign।
একই সঙ্গে এই বিতর্ক নতুন প্রশ্নও তুলছে— প্রশাসনিক প্রচার আর রাজনৈতিক প্রচারের সীমারেখা কোথায় টানা হবে? বিশেষত, ওষুধ ও জনস্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় নেতার ছবি ব্যবহার কতটা ন্যায্য— সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।



