মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে: কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ মোদির, পাল্টা তোপ রাহুলের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেশের রাজনীতিতে তীব্র তরজা। কংগ্রেসকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যের অভিযোগে আক্রমণ মোদির, সংসদে আলোচনা না হওয়া নিয়ে পাল্টা তোপ রাহুল গান্ধীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেশের রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। ওই অঞ্চলে বহু ভারতীয় আটকে থাকার আশঙ্কার মাঝেই কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর অভিযোগ, এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে শতাব্দীপ্রাচীন দলটি। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi পাল্টা অভিযোগ করেছেন, সরকার সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে।

কেরলের এর্নাকুলমে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে এদিন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সুরে আক্রমণ শানান মোদি। তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

মোদি বলেন, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য হচ্ছে সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলে রাজনৈতিক প্রচার চালানো। তাঁর কথায়, “ওরা চায় আমাদের নাগরিকরা সেখানে আটকে থাকুক, যাতে পরে মোদিকে অপমান করে প্রচারের জন্য ভিডিও তৈরি করা যায়।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, আন্তর্জাতিক সংকটের মতো বিষয়েও রাজনৈতিক স্বার্থ খুঁজছে বিরোধীরা—যা তিনি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সংসদে এই ইস্যুতে আলোচনা না হওয়া নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা—এই বিষয়গুলি কি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়?

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। সেই হামলায় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে।

প্রতিশোধ নিতে ইরানও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের উপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কেও হামলার খবর সামনে এসেছে।

যুদ্ধের জেরে ইরানে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন এবং ভারতের মতো একাধিক দেশ শান্তির আহ্বান জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই সংঘাত থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর