মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ক্রমশ ছড়াচ্ছে। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পালটা আঘাতে তেহরান কার্যত ‘আহত বাঘ’। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি। রবিবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠকের পর প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে দ্রুত সংঘর্ষ থামানোর আর্জি জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর খবর ছড়াতেই পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পালটা হামলা শুরু করে তেহরান। যুদ্ধের আবহে গোটা অঞ্চল জুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন নরেন্দ্র মোদি।

সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফেরানো, কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষেই প্রথম ফোন যায় শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর কাছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে হামলার তীব্র নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-কে। কথোপকথনের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে মোদি লেখেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ থামানোর আবেদন জানিয়েছে ভারত।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ফোনালাপ কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়—বরং সংকটকালে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার ভারতের কৌশলেরই ইঙ্গিত। একদিকে আমিরশাহীর পাশে সংহতির বার্তা, অন্যদিকে ইজরায়েলের কাছে শান্তির আহ্বান—দুই দিকেই সমান বার্তা দিতে চেয়েছে নয়াদিল্লি।


মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারত সরকার। এখন দেখার, যুদ্ধবিরতির আহ্বান কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়।








