নজরবন্দি ব্যুরো: মিজোরামে নির্মীয়মাণ রেলসেতু ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। তাঁরা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গের মালদহের বাসিন্দা। পেটের দায়ের কাজে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার, অকালে ঝরল এতগুলি প্রাণ। ভিন রাজ্যে প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলায় নিহতদের বাড়িতে শোকের ছায়া! মৃতদেহগুলি ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে। কিন্তু যেভাবে নিহত শ্রমিকদের দেহ কফিনবন্দী করে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে রেলের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড, মৃত কমপক্ষে ৯ জনের
রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের অভিযোগ, কফিন যখন গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছিল কফিনের বাইরে রক্ত লেগেছিল। মৃতদেহের দুর্গন্ধ এতটাই ছিল যে দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। মন্ত্রীর অভিযোগ, ফর্মালিন ইঞ্জেকশন না দিয়েই ‘গয়ংগচ্ছ’ মনোভাবের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। রেলের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘যে প্রক্রিয়াকরণ করে দেহ পাঠানো উচিত, তা বিন্দুমাত্র করা হয়নি। আমি এই মুহূর্তে কোনও রাজনীতি করতে চাইনি। তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি। কোনও রকমের নিয়ম মানা হয়নি। এখানে যখন দেহগুলি এসে পৌঁছল, তখন দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। রেলের গাফিলতি। এটা না বলে পারছি না, রেল পারলে অনেক ভালভাবে দেহ পাঠাতে পারত।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৩ আগস্ট) সকালে মিজোরামের সাইরাং এলাকায় নির্মীয়মাণ রেলসেতু ভেঙে পড়ে। আইজল থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে সাইরাংয়ে এদিন সেতুর কাজ করছিলেন ৩৫-৪০ জন শ্রমিক। সকাল ১০টা নাগাদ আচমকাই সেতুটি ভেঙে শ্রমিকদের নিয়ে নীচে খাদে পড়ে যায়। বাংলার ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ব্রিজ-বিপর্যয় নিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রেলের তরফে ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া ৯ লক্ষ টাকার চেক তাঁদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি আহতদের জন্য বরাদ্দ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নগদে দেওয়া হয়। যদিও এনিয়ে শাসক দল সরব হয়েছে। মালদহের এক তৃণমূল নেতা বলেন, ‘রাজ্যপাল বিজেপির দূত হয়ে কাজ করছেন। রেলের হয়ে তাই তিনি মৃতদেহ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ তুলে দিচ্ছেন।’
কফিনে রক্ত, পচা দুর্গন্ধ, মিজোরামে নিহতদের দেহ এল বাংলায়, রেলের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ




