রাজনীতির ময়দানে নাম এক হলে বিভ্রান্তি নতুন নয়। কিন্তু সেই বিভ্রান্তি যদি পৌঁছে যায় আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত, তা হলে মুহূর্তটা হয়ে ওঠে অনন্য। ঠিক তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হুগলির একটি নিম্ন আদালত—যেখানে নাম শুনেই খানিকটা চমকে গেলেন খোদ বিচারক।
কারণ অভিযুক্ত নন, নামটি ছিল পরিচিত—মিঠুন চক্রবর্তী। আর রাজনীতি মানেই তো নামটার সঙ্গে অন্য এক পরিচিত মুখ জড়িয়ে রয়েছে! ফলে বিচারকের মুখে অনিচ্ছাকৃত ভাবেই বেরিয়ে আসে প্রশ্ন—আপনি আবার কোন দলে?

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নাম ডাকা, তার পরেই ‘বিভ্রান্তি’
একটি রাজনৈতিক সংঘাত সংক্রান্ত মামলায় হুগলির মহকুমা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে হাজির হয়েছিলেন সিপিএমের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের এক রাজ্য স্তরের নেতা এবং হুগলি জেলা কমিটির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তীর নামেও একজন।
আদালতকক্ষে একে একে নাম ডাকা হচ্ছিল। প্রত্যেকে হাত তুলে উপস্থিতি জানাচ্ছিলেন। শেষ দিকে যখন “মিঠুন চক্রবর্তী” নামটি উচ্চারিত হয়, তখনই মুহূর্তের জন্য থেমে যান বিচারক। খানিক রসিক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেন, “মিঠুন চক্রবর্তী? আপনি তো বিজেপিতে ছিলেন—সিপিএমে এলেন কবে?”
আদালতকক্ষে তখন হালকা হাসির আবহ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে সিপিএম নেতা জানান—নাম ও পদবি একই হলেও তিনি বরাবরই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত।



যে মামলায় আদালতে হাজির সিপিএম নেতৃত্ব
চলতি বছরের অগস্টে হুগলির একটি ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলাতেই সম্প্রতি আগাম জামিন চাইতে আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএম নেতারা।
শেষ পর্যন্ত আদালত ওই মামলায় আগাম জামিন মঞ্জুর করে। তবে শুনানির থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে আসে আদালতকক্ষে ঘটা এই ‘নাম বিভ্রাট’।

প্রকাশ্যে নীরব, তবে ঘনিষ্ঠদের ব্যাখ্যা আলাদা
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি সিপিএম নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“বিচারাধীন কোনও বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলা ঠিক নয়।”
তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, এই বিভ্রান্তির সূত্র বহু পুরনো। প্রয়াত সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মহলে থাকাকালীন এই নাম বিভ্রাট তেমন চোখে পড়েনি। কিন্তু পরে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক যাত্রা—প্রথমে তৃণমূল, পরে বিজেপি—নামটিকে নতুন করে আলোচনায় এনে দেয়।
রাজনীতির বাইরেও অন্য রকম মিঠুন
শ্রীরামপুরের বাসিন্দা এই মিঠুন চক্রবর্তী বাম রাজনীতির পরিচিত মুখ হলেও তাঁর জীবনধারা একেবারেই আলাদা। মোটরবাইক চালিয়ে এলাকায় ঘোরা, ধর্মঘটের দিনে কারখানার গেটে হাজির থাকা যেমন তাঁর দৈনন্দিন চিত্র, তেমনই পেশাগত ভাবে তিনি পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।
দেশের নানা প্রান্তে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া, পাহাড়ে বরফের উপর হাঁটার ভিডিও বানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট—সবই তাঁর স্বভাবের অংশ। গাম্ভীর্যের রাজনীতির বাইরেও তাঁর একটা আলাদা জীবন রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায়
আর এক মজার সমাপতন—অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ছবি ‘প্রজাপতি ২’ মুক্তির সময়ের কাছাকাছি এই মিঠুনের জীবনেও শুরু হতে চলেছে নতুন অধ্যায়। আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি বিয়ে করতে চলেছেন। বর্তমানে পর্যটকদের নিয়ে তিনি মেঘালয়ে রয়েছেন। ফিরে এসেই শুরু করবেন বিয়ের প্রস্তুতি।
রাজনীতি, আদালত আর ব্যক্তিগত জীবনের এই মিশ্রণেই আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে—সিপিএমের মিঠুন চক্রবর্তী।







