আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় সমাবেশ ডেকেছিল বাম ছাত্র, যুব এবং মহিলা সংগঠন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় দিয়ে দলে দলে লাল ঝাণ্ডার সমর্থকেরা হাওড়া, শিয়ালদহ এবং পার্ক স্ট্রিট থেকে তিনটি বড় মিছিল সভাস্থলে এলেন। বেলা একটা থেকে সভা শুরুর কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা আরম্ভ হল বেলা আড়াইটের সময়।
এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের একবার ‘ভুল’ করে ফেললেন ডিওয়াইএফআই সম্পাদক মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পদবি গুলিয়ে ফেললেন যুবনেত্রী। বললেন, বন্দ্যোপাধ্যায়! সম্প্রতি তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল জামিন পাওয়ার পর কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, ‘‘বাংলার বাঘ বেরিয়ে আসছে। এ বার বিরোধীরা পালাবে।’’ সেই প্রসঙ্গের তুলে ধরে মিনাক্ষী কটাক্ষ করেন, ‘‘গরুপাচারের আসামি জামিন পেয়েছে! তাঁকে বলছে বাংলার বাঘ। আমরা বাংলার বাঘ বলতে স্যার আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানি! কোনও গরুপাচারকারীকে নয়।’’
যদিও আশুতোষবাবুর পদবি ছিল, মুখোপাধ্যায়। বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। হতেই পারে, মিনাক্ষী না জেনে এই ‘ভুল’ করেননি। বক্তব্যের প্রবাহে এই ভুল করে ফেলেছেন। যদিও তিনি সেই ভুল আজ সংশোধনও করেনি। মঞ্চের সামনে উপস্থিত বাম সমর্থকেরা ততক্ষণে বুঝে গিয়েছেন ‘বড়’ ভুল হয়ে গিয়েছে মিডিয়ার সামনে। কানাঘুষো আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, মিনাক্ষী সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। যেন বুঝতেই পারেননি কিছু ভুল হয়েছে।
অতীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানান সময় একাধিক ‘ভুল’ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। সে সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র হোক, বা সিধু-কানু ডহরই হোক! একবার সরস্বতী পুজোকে বসন্ত উৎসব বলে বসেছিলেন তিনি। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা বয়ে যায়। বিরোধীদের তরফে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ ধেয়ে আসে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা আসে বামেদের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে। একাধিক বাম নেতানেত্রী কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মমতাকে।
এবার বামেদের প্রধান মুখ তথা ফিনিক্স পাখি, যিনি সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে সর্বসাকুল্যে বামদের ৪৬টা ভোট জোগাড় করে দিতে পেরেছেন, তিনি আজ ডাহা ভুল করে ফেললেন। সাধারণত, বামপন্থীরা তাঁদের গাম্ভীর্য ও জ্ঞানকে নিয়ে কিছুটা বড়াই করেই থাকেন। এটা অস্বীকার করার নয়। খেটে খাওয়া মানুষের দলে এখন এলিট ক্লাসের উজ্জ্বল উপস্থিতি। তাহলে, তাঁদের নেত্রী আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আসল পদবী জানবেন না কেন? প্রশ্নটা কি বামেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেল থেকে তোলা হবে?
আসলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মঞ্চে নেতানেত্রীরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমবেশি ভুল করেই থাকেন। সেটা অনেকসময়েই ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণেও হয়। ঝাঁঝালো বক্তব্যের প্রবাহে একটা দু’টো ভুল শব্দ বেরিয়েই যায়। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধায় এধরনের ভুল করে থাকলে তাঁকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েন না বিরোধীরা। বিশেষ করে, বামেরা। এবার কি আত্মসমালোচনা করবেন? নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচেষ্টা জারি থাকবে বাম মহলে?



