রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও অবস্থান যে বদলায়নি—ভোটের দিনেই তা স্পষ্ট করে দিলেন অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। ‘পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক নারীর লড়াই’—এই বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ‘বাঘিনী’ বলে সম্বোধন করে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন তিনি। মুহূর্তে সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের সকালেই যখন ভবানীপুরে বুথে বুথে ঘুরছেন মমতা, ঠিক সেই সময়েই আগের রাতের মিমির পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর আলোচনা। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একজন নারীই পিতৃতন্ত্রকে নাড়া দিয়েছিলেন। আরেক নারী হিসেবে তাঁর এই সাহসিকতাকে স্যালুট করুন। এটা কোনও রাজনীতি নয়, এক বাঘিনীর লড়াই।” এই বার্তায় স্পষ্ট, রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেও ‘দিদি’র প্রতি তাঁর আস্থা অটুট।


একসময় সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা গিয়েছিল মিমিকে। ২০১৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে যাদবপুর থেকে সাংসদ হন তিনি। সেই সূত্রেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শুরু মমতার হাত ধরেই। যদিও ২০২৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান মিমি, তবু ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও ফাটল পড়েনি—এই বার্তাই যেন আবারও সামনে এল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস—সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে শুরু করে তিন দশকের বাম শাসনের অবসান—এই সবই মিমির বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর চোখে এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধেও এক প্রতীকী সংগ্রাম।
ভোটের আবহে যেখানে রাজনৈতিক বার্তা ও পাল্টা বার্তা শানাচ্ছে বিভিন্ন দল, সেখানে এক প্রাক্তন সাংসদের এই আবেগঘন সমর্থন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।









