আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (MetLife Stadium) রবিবার রাতই যখন লিওনেল মেসির (Lionel Messi) আর্জেন্টিনা নামবে লামিনে ইয়ামালের স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে (FIFA World Cup 2026), তার ঠিক আগেই নাড়া দিয়ে গেলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত বিদায়বার্তা বলে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ফলাফল যাই হোক, এই ম্যাচই কি তাঁর শেষ? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা ফুটবল মহলে।
যাঁরা লিওনেল মেসিকে চেনেন, তাঁরা জানেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সাধারণত খুব বেশি কথা বলেন না। কিন্তু এদিনের পোস্ট যেন অন্যরকম। গোটা আর্জেন্টিনা দলের একটি ছবি শেয়ার করে মেসি লিখেছেন, ‘এই সমস্ত বছর ধরে সবচেয়ে সেরা মুহূর্তগুলো শুধু ট্রফি জেতা ছিল না, বরং পুরো যাত্রাপথটাই অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিন কাটানো, প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া, একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় লড়াই করা, কঠিন সময়ে উঠে দাঁড়ানো—এগুলিই আসল সম্পদ।’
এরপর তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মেসির কথায়, ‘আমার প্রত্যেক সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং যাঁরা এই পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ফাইনালে যাই ঘটুক না কেন, এই দল ইতিমধ্যেই ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে। যা আমরা কখনও ভুলব না, যা কেউ কোনও দিন মুছে ফেলতে পারবে না।’
মেসির এই পোস্টে প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো (Antonella Roccuzzo)। তিনি কমেন্ট করেছেন একগুচ্ছ কান্নার ইমোজি। আর তাতেই চাঞ্চল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ তো ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন, নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার কি তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন মেসিকে? সব কিছু জিতে নেওয়ার পরে কি এবার চিরবিদায় নিতে চলেছেন বিশ্বসেরা এই ফুটবলার?
View this post on Instagram
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর অবসর নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সেই সিদ্ধান্ত। আর্জেন্টিনার হয়ে ফিরে এসে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা—সব কিছু জিতে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার কি সেই ২০১৬-র মতো আবার ফিরবেন? নাকি এটাই শেষ অধ্যায়? জানা নেই। এদিনের পোস্টে তিনি যদিও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি, কিন্তু আবেগঘন ভাষায় তিনি যেন আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রাখার অন্তিম মুহূর্তের আভাস দিয়ে গেলেন।
ফাইনালের আগে এমন পোস্টে গোটা ফুটবল বিশ্ব এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়ায়। কেউ বলছেন, প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই এহেন পোস্ট। আবার অনেকের বিশ্বাস, এই ফাইনালই তাঁর কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়। তবে যাই হোক, রবিবার রাতের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসি যখন নামবেন, চোখ থাকবে সবার। কারণ হয়তো সেটাই শেষবার।



