নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপি এবং সিপি(আই)এমের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে সরকারী চাকরী পদ খালি থাকলেও নিয়োগ না হওয়ার জন্য নামেদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। সরাসরি আক্রমণ করেছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। এবার মমতার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন সিপি(আই)এমের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
আরও পড়ুনঃ Shah Rukh Khan: হলিউডে কেন ছবি করবেন না কিং খান? জানালেন আসল কারণ
রিনি বলেন, সমাবেশটা কেন ডাকা হয়েছিল সেটা নিয়েই সন্দেহ। ঘোষিত কর্মসূচিটা কী? রাজনীতিটা কী? আসলে উনি সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর এখন বলছেন। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অবস্থান ঠিক করতে পারছেন না কারোন ইডি, সিবিআইয়ের চাপ রয়েছে। ততক্ষণে স্বস্তি দিয়েছে। কীভাবে কয়লা পাচারের টাকা পাচারকারীদের মাধ্যমে ভাইপো এবং ভাইপোর বউয়ের অ্যাকাউন্টে গেছে। কীভাবে বিদেশে গেছে। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ অবধি রয়েছে।
তাঁর কথায়, মিথ্যা সাক্ষ থাকলে নস্যাৎ করা যায়। কিন্তু চার্জশিটে দেখা গেল ২১ এ পুরস্কার। আজকে নামে শহীদ দিবস হলেও, মোচ্ছব হয়েছে। চলো খুন করেছি অপরাধ কেউ নেবে না। চুরি করেছি, ডাকাতি করেছি। সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে। হিন্দিতে একটা কথা রয়েছে “সাঁইয়া ভায়ে কতোয়াল তো ডর কাহেকা”। এটাই তো ম্যানেজ।

উনি আজকে সিপিএম সম্পর্কে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সম্পর্কে, গণশক্তি পত্রিকা সম্পর্কে এত কথা বললেন, এখন দেখা গেল ভোটের সময়ে বিজেপি বিরোধী বড় মুখ। আজকে সারা দেশে আরআরএস স্পনসর বিজেপি সরকার যেভাবে আমাদের সাংবিধানিক কাঠামোকে ভাঙছে। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রকে ভেঙে ফেলছে। সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করছে। একটা হিন্দুত্ববাদী উন্মাদনা তৈরি করে ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের প্রয়াস করছে। এদিকে জিএসটি বেড়ে চলেছে, গরীব মানুষকে গ্রাম থেকে আনা হল শুধুমাত্র একটা উৎসব হবে খাওন দাওন হবে। কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার কর্মীদের বদান্যতায় এবং সৌজন্যে কাদের টাকা পয়সায়।

বর্ষীয়ান বাম নেতার কথায়, প্রতিদিন জনকল্যাণ খাতে মানুষের খরচ বেড়ে চলেছে। শিক্ষার খরচ, ওয়াথ্যের খরচ পকেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। সমস্ত বিষয়টা বেসরকারিকরণের দিকে চলে যাচ্ছে। অর্ধেকের বেশী প্রাইমারি স্কুল বন্ধ। তো মানুষকে এওসব কথা শোনালেন না? আমি তো বলছি না সবটা ওনার দোষ। গোটা দেশ যেদিকে যাচ্ছে তাতে রেশন ব্যবহার ভেঙে পড়বে। দেশের খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে চলেছে, মুদ্রাস্ফীতি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে জিএসটি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীন ভারতে এরকমভাবে খাদ্যদ্রব্যের ওপর কর ছিল? অংরেজ আমলে ছিল।
উল্লেখ্য এদিনের সভা থেকে মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, রাজ্য সরকার ১৭ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগে জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বারবার বিজেপি আটকে দিচ্ছে। সরাসরি আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতার বার্তা, বিকাশবাবুদের জন্য নিয়োগ হচ্ছে না।কাদের বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন? সেই ফাইলটা একটু বার করব? কী বলেন বিকাশ বাবু! কটাক্ষ মমতার। বলেছিলাম, বদলা নয়, বদল চাই। তাই কিছু করিনি।
নামে শহীদ দিবস হলেও, মোচ্ছব হয়েছে, আক্রমণ সেলিমের

তিনি আরও বলেন, সিপিএমের আমলে চাকরি হয়েছিল ? একটা চাকরিতে ১০ লক্ষ ১৫ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রি করেছিল। সিপিএমের একটা কাগজ আছে। তার যত রিপোর্টার আছে, তাদের বউরা টিচারিতে চাকরি পেয়েছিল কী করে? ছেলেরা পার্টি করত আর বউদের চাকরী দেওয়া হত।



