বিধানসভা ভোটের আগে মালদহে কংগ্রেস শিবিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। দলের যে মুখকে সামনে রেখে জেলায় নতুন করে সংগঠন চাঙ্গা করার আশা করা হয়েছিল, সেই প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নুরকে নিয়েই এখন সংশয়ের সুর। সূত্রের খবর, একটিমাত্র আসনে ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মালদহের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে।
জেলা কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদেশ ও দিল্লির হাইকমান্ডের অনুমোদন মিললেই সুজাপুর এবং মালতিপুর—এই দুই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে মৌসমকে। অর্থাৎ একই সঙ্গে জোড়া আসনে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করছে জেলা নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, একটি আসনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে।


গত কয়েক বছরে মৌসম বেনজির নুরের দলবদল নিয়েও জেলার রাজনীতিতে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া, তারপর আবার কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন—পরপর দু’বার দল পরিবর্তনের ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক ইমেজে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। নিচুতলার কর্মীদের একাংশও এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি বলে শোনা যাচ্ছে।
প্রয়াত এবিএ গনি খান চৌধুরির পরিবারের সদস্য হওয়ায় মালদহে মৌসমের রাজনৈতিক গুরুত্ব বরাবরই ছিল। কিন্তু বর্তমানে জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল। বামেদের সঙ্গে জোট না হওয়ায় সম্ভাব্য বাম ভোটও পেতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা দলের একাংশের। ফলে জেলার ১২টি আসনের মধ্যে কোনও আসনই নিশ্চিত নয়—এমন ধারণাই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
জেলার একাংশ নেতার মতে, মৌসমকে দলে ফিরিয়ে এনে তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন সাংসদ ইশা খান চৌধুরি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল ও বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেস সংগঠিতভাবে ময়দানে নামতে পারেনি—এমনই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


এই পরিস্থিতিতে কোনও আসনকেই ‘নিরাপদ’ মনে করা হচ্ছে না। সেই কারণেই মৌসমকে জোড়া আসনে প্রার্থী করার প্রস্তাব জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরি।









