নজরবন্দি ব্যুরোঃ একইদিনে দু’বার ভুমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক। তীব্র ঝাঁকুনিতে ধূলিসাৎ সিরিয়া ও তুরস্কের একাধিক এলাকা। যা এখনও অবধি এই শতকের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলেই মনে করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোরবেলায় তুরস্কের উত্তর-পূর্ব ভাগ আক্রান্ত হয়েছিল। দুপুরে কাঁপল তুরস্কের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত এবং প্রতিবেশী সিরিয়ারও কিছু কিছু এলাকা।
আরও পড়ুনঃ মাছভাত বিতর্কে স্বস্তি পেলেন পরেশ রাওয়াল, সেলিমার FIR খারিজ করল কোলকাতা হাই কোর্ট


ভোরবেলা রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্র ছিল ৭.৮। তুরস্কের সমস্ত বড় শহর, যেখানে জনবস্তি এবং শরণার্থীদের সংখ্যা বেশী, সেখানেই ভুমিকম্পের জেরে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর দুপুরের দেশের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে ফের কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্র ছিল ৭.৫। পরপর ভূমিকম্পের জেরে এখন ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট করতে পারছে না তুরস্কের প্রশাসন।

এটা এই এলাকার সবচেয়ে বড় ভুমিকম্প। এমনটাই জানাচ্ছে সিরিয়ার জাতীয় ভূমিকম্প বিভাগের প্রধান রায়িদ আহমেদ। শুধুমাত্র সিরিয়ার ৩২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে সেই দেশের প্রশাসন। তুরস্কে সেই তুলনায় মৃতের সংখ্যা এই মুহুর্তে ৯১২। তুরস্কে সকাল থেকেই বরফ ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমজনতা। কারোর পুরো পরিবার এখনও ধংসস্তুপের নীচে। উদ্ধার করতে গিয়ে বিরাট ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলিকে।


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ এদ্রোগান জানিয়েছেন, নির্বাচনের কথা এখন দূরে রেখে সবার উচিত এই উদ্ধারকাজে হাত লাগানো। আমরা যত সম্ভব চেষ্টা করছি যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার। তুরস্কের এই ঘটনায় সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে মার্কিন সুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি। সমস্ত সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি তুরস্কের কথিন সময়ে এগিয়ে এসেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলিনিস্কি।
মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়াতে পারে, শতকের অন্যতম ভয়াবহ ভুমিকম্প

তবে এখনই মৃতের সংখ্যা জানান্তে নারাজ তুরস্কের প্রশাসন। কারণ, এখনও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এর আগে ১৯৩৯ সালে তুরস্কে ভূমিকম্পের জেরে ৩৩ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছিল। সোমবার ঘটনা সেদিনের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে।








