ফের অশান্ত মণিপুর, নাগা অধ্যুষিত ৩ গ্রামে ৯ ঘণ্টা সশস্ত্র হামলা, লুট-অগ্নিসংযোগে তাণ্ডব

মণিপুরের কাংপোকপি জেলার তিন নাগা অধ্যুষিত গ্রামে ভোর থেকে প্রায় ন’ঘণ্টা সশস্ত্র হামলার অভিযোগ। গুলি, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, গুরুতর জখম প্যাস্টর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফের উত্তপ্ত মণিপুর। কাংপোকপি জেলায় নিয়াংমাই নাগা অধ্যুষিত তিনটি গ্রামে মঙ্গলবার ভোর থেকে প্রায় ন’ঘণ্টা ধরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে কুকি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। পিপুরাই মাকুই, নাগা টাপোন (ওল্ড) এবং নাগা টাপোন নামসান (নিউ) গ্রামে গুলি চালানোর পাশাপাশি একাধিক বাড়ি, রাইস মিল ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং খাদ্যশস্য ও গৃহস্থালির সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ আচমকাই হামলা শুরু হয়। প্রায় ৩০০ জন সশস্ত্র কুকি হামলাকারী তিনটি গ্রামে একসঙ্গে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। গ্রামের নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের সংখ্যা ও অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে তাঁরা পেরে ওঠেননি।

হামলার সময় যথেচ্ছ গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন নাগা টাপোন (ওল্ড) গ্রামের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের প্যাস্টর লুইথুইবউ নিউমাই। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বাইরে আর কারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে গুলির পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি গ্রামবাসীদের। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাইস মিল, ট্রাক, মোটরবাইক, জিপসি ও আর্থমুভার-সহ বিভিন্ন যানবাহনও।

শুধু বাড়িঘর বা যানবাহনেই হামলা থামেনি বলে অভিযোগ। খাদ্যশস্য, গবাদি পশু, কৃষিকাজের সরঞ্জাম এবং বাড়ির প্রয়োজনীয় সামগ্রী লুট ও নষ্ট করা হয়েছে। ফলে হামলার পরে বহু পরিবার কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তিনটি গ্রাম চালওয়া থানার প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষী এবং গ্রামবাসীরা নিজেদের মতো করে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা সশস্ত্র আক্রমণের সামনে সেই প্রতিরোধ কার্যকর হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, হামলার খবর পাওয়ার পরেও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। তাঁদের অভিযোগ, মাকুই ও বাংলাবুং এলাকা থেকে বারবার খবর দেওয়া হলেও বেলা সাড়ে ১২টার আগে বাহিনী সেখানে পৌঁছয়নি।

প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ন’ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ CRPF ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলা থামে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বুধবার সকালেও ওই এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও সংঘর্ষ না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরেই জাতিগত সংঘাতের জেরে একাধিক এলাকায় অস্থিরতা রয়েছে। নতুন করে কাংপোকপির নাগা অধ্যুষিত গ্রামে এই হামলার অভিযোগ সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিল। হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলির উত্তর পেতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন