নজরবন্দি ব্যুরোঃ একের পর এক নৃশংস হত্যা কাণ্ড ঘটে চলেছে সারা দেশে। দিল্লিতে আফতাবের লিভিং সঙ্গী কে খুনের পরই এবার মধ্যপ্রদেশে প্রকাশ্যে এল আরোও এক ভয়াবহ খুনের ঘটনা। এক ব্যক্তি তাঁর প্রেমিকাকে খুন করে তাঁর গলা কাটা দেহের সঙ্গে ভিডিয়ো রেকর্ড করলেন। সেই হাড়হিম করা ভিডিও ছড়িয়ে দিলেন সমাজ মাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ প্রেমিকা শ্রদ্ধার কাটা মাথার সামনেই আবাধ যৌনাচার! নারকীয় হত্যার কথা স্বীকার আফতাবের
লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুন করে ৩৫ টুকরো করেছিল আফতাব। যার বীভৎসতা স্তম্ভিত করেছিল গোটা দেশকে। দুদিন যেতে না যেতেই, পাটনার ব্যবসায়ী অভিজিৎ তাঁর প্রেমিকা শিল্পা ঝারিয়াকে খুন করলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৮ নভেম্বর খুনের ঘটনাটি ঘটে। এরপর ব্যবসায়ী নিজেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে পোস্ট করেন। যেখানে কম্বল সরাতেই দেখা যায়, প্রেমিকার কাটা মুণ্ডু। প্রেমিকার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাবু, হেভেন মে ফির মিলেঙ্গে।” কিন্তু এই খুনের পিছনে কারণ কী?

অপরাধী জানিয়েছেন, তাঁর ও তাঁর ব্যবসার পার্টনারের সঙ্গে একত্রে প্রেম করছিলেন শিল্পা। তা জানতে পেরেই বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে পারেননি। একেবারে খুন করেই নিয়েছেন প্রতিশোধ। খুনের পর গলা কাটা দেহের সঙ্গে ভিডিয়োও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি একথাও বলেন, “বেওয়াফা নেহি করনে কা।“
এক নয়, একাধিক বার ভিডিও দিতে থাকেন। সঙ্গে দিতে থাকেন বিভিন্ন বার্তা। তদন্তে নেমে পুলিশ এই ভিডিয়ো খুঁজে পায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। রক্ত মাখা দেহটি জবলপুরের মেখলা রিসর্ট থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃতা শিল্পার সঙ্গে দুই ব্য়ক্তিরই সম্পর্ক ছিল বলে জানান তিনি। অভিজিৎ জানান, তিনি জিতেন্দ্র থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং জবলপুরে পালিয়ে যান। জিতেন্দ্রর নির্দেশেই তিনি শিল্পাকে খুন করেন। জিতেন্দ্রর এক সঙ্গী সুমিত পটেলের নামও উল্লেখ করেন ভিডিওতে।
ইতিমধ্যেই পুলিশ জিতেন্দ্র ও সুমিতকে বিহার ও জবলপুর থেকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তাদের জেরা করা হচ্ছে। পুলিশের স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট প্রিয়ঙ্কা শুক্লা জানান, দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়ান অনুযায়ী, এক মাস ধরে অভিজিৎ পটনায় জিতেন্দ্রর বাড়িতেই থাকছিল। গত ৬ নভেম্বর জবলপুরের মেখলা রিসর্টে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সেই রাতে অভিজিৎ একাই ছিলেন হোটেল রুমে। পরের দিন দুপুরে এক মহিলা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন, দুইজনের জন্য খাবারও অর্ডার করা হয়। এর এক ঘণ্টা পরই অভিযুক্ত হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। ৮ নভেম্বর হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই রুমের দরজা ভাঙলে ভিতর থেকে ওই মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
ভিডিওকলে কম্বল সরাতেই গলা কাটা প্রেমিকার দেহ, আবারও হাড়হিম করা খুন ঘটনা মধ্যপ্রদেশে

জিতেন্দ্র ও সুমিতকে গ্রেফতার করা হলেও, মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পলাতক। তাঁকে খোঁজার জন্য মধ্য প্রদেশ. মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে পুলিশের দল পাঠানো হয়েছে। একাধিক নৃশংস খুনের ঘটনায় বিচলিত পুলিশ বিভাগ।



