নীতি অয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে এই মুহূর্তে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে গিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার এই বৈঠক, একদিন আগেই দু’জন পৌঁছেছেন। আজ বিকেলে রাজধানীতে পা রেখে প্রথমেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ি গিয়ে তাঁর স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। আর এরপরেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তৃণমূলের সদ্য নির্বাচিত সাংসদদের সাথে দেখা হল দলনেত্রীর।
লোকসভায় বাজেট অধিবেশন চলছে। সেখানে বেশিরভাগ তৃণমূল সাংসদরা অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই যেমন পোড়খাওয়া আবার অনেকেই নতুন। এদিন সকলের সঙ্গেই একটি ঘরোয়া বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ সাংসদদের নেত্রী নতুনদের ‘গাইড’ করতে বলেছেন। সূত্রের খবর, দলের স্পিরিট বজায় রাখা এবং যে কোনও বিতর্কে সক্রিয় ভাবে ‘ঝাঁপিয়ে’ পড়ার জন্য বেশ কিছু ‘টিপস্’ দিয়েছেন মমতা। বিশেষ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন নতুনদের সাহায্য করার।

লোকসভায় তৃণমূলের নারীশক্তি নেহাত কম নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন মহিলা, এবং দল হিসাবে তৃণমূলে মহিলা রাজনীতিবিদদের সংখ্যাটা অন্য অনেক দলের চেয়ে বেশি। লোকসভা ও রাজ্যসভা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মহিলা সাংসদ তৃণমূলের, ৩৮ শতাংশ। এদিন তাঁদের আবদারে আলাদা করে ছবি তুলতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে। সাগরিকা ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, জুন মালিয়া, দোলা সেন, সায়নী ঘোষ, মিতালী বাগ, সুস্মিতা দেব সহ সব মেয়েরাই ছিলেন। নতুনদের পারফরম্যান্সে মমতা খুশি। তবুও, আড়ষ্টতা ভেঙে আরও সোচ্চার হবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সায়নী, মিতালী প্রথমবার লোকসভায়। তাঁদের বক্তৃতার প্রশংসাও করেছেন মমতা।
লোকসভায় তৃণমূলের নারীশক্তি, মধ্যমণি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্যদিকে, অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগদানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কারণ, বাজেটে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ‘ইন্ডিয়া’ জোট এই বৈঠক বয়কট করেছে। কংগ্রেস, সিপিআইএম, ডিএমকে-এর মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে যাবেন না বলে স্থির করেছেন। সেখানে একজন গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসাবে মমতা কেন উল্টো পথ ধরলেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও তার উত্তর তৃণমূলনেত্রী নিজেই দিয়েছেন। মমতা বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেওয়া হয়নি এবং বাজেটের আগেই নীতি আয়োগের বৈঠকে তিনি যোগদানের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।



