মহাশিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে বাংলাজুড়ে ভক্তদের উৎসবের আবহ। এই শুভদিনে রাজ্যের মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি শান্তি, সহাবস্থান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান, যা বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমানভাবে ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও ধর্মস্থান সংস্কার এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাশিবরাত্রির দিন সেই কাজগুলির কথাও তুলে ধরেন তিনি।


সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের একাধিক ঐতিহাসিক শিবমন্দিরের সংস্কার করা হয়েছে। জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে সার্বিক সংস্কারের পাশাপাশি ভক্তদের সুবিধার্থে স্কাইওয়াক তৈরি হয়েছে। হুগলির তারকেশ্বর মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের জন্য গঠন করা হয়েছে তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সেখানে মন্দির চত্বর সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন, আলোকসজ্জা এবং দুধপুকুর সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণের মতো কাজ করা হয়েছে।
এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক শিবমন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ হয়েছে। বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দির, কোচবিহারের হিরণ্যগর্ভ শিবমন্দির, উত্তর দিনাজপুরের প্রমথেশ্বর জিও শিবমন্দির, বীরভূমের বক্রেশ্বর এলাকায় পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের শ্যামলেশ্বর শিবমন্দির—সব জায়গাতেই কাজ করেছে রাজ্য সরকার।
তালিকায় রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার ১০৮ শিবমন্দিরের আলোকসজ্জা, হুগলির চণ্ডীতলার বক্সা শিবমন্দির, দারহাট্টার রাজেশ্বর শিবমন্দির এবং জাঙ্গিপাড়ার হরিরামপুরের শিবমন্দিরের সংস্কারও।


মহাশিবরাত্রির এই পবিত্র দিনে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় উঠে এসেছে বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান।








