ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে চাপ বাড়াল নবান্ন। সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আবার চিঠি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কড়া ভাষায় দাবি—এসআইআর প্রক্রিয়া যন্ত্রনির্ভর, সংবেদনশীলতার অভাব স্পষ্ট; আর এই ‘আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগও উঠছে।
শনিবার Mamata Banerjee চিঠিতে লেখেন, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন যে ভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে, তাতে তিনি “স্তম্ভিত ও বিরক্ত”। এর আগে উদ্বেগ জানালেও, এ বার তিনি পরতে পরতে উদাহরণ টেনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এসআইআর পর্বে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে—এই মৃত্যুর নেপথ্যে ‘এসআইআর আতঙ্ক’ কাজ করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
চিঠিতে তিনি বলেন, এসআইআর শুনানিতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়—স্বনামধন্য ব্যক্তিরাও ‘হয়রানির শিকার’। তালিকায় আছেন Amartya Sen, কবি Joy Goswami, অভিনেতা Dev এবং ক্রিকেটার Mohammed Shami—তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম বা ঠিকানা বদলের মতো স্বাভাবিক কারণে বিবাহিত মহিলাদেরও তলব করে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
এসআইআর শুনানিতে পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই একতরফা ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে; কেউ কেউ নাকি এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা—লজ়িক্যাল ডিসক্রিপেন্সি—নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর মতে, এই তালিকা অযৌক্তিক। পাশাপাশি কমিশনের ব্যবহৃত ‘পোর্টাল’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি—পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত পোর্টাল অন্য রাজ্যের থেকে আলাদা কেন? আগেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপির আইটি সেল এই পোর্টাল তৈরি করেছে।
চিঠির প্রাপক Gyanesh Kumar—তাঁর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করা হোক। কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রাজ্য।



