আগামী ২৭ জুলাই, শনিবার দিল্লিতে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে আজ, বৃহস্পতিবার বিকালে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। কিন্তু সূত্রের খবর, আজ দিল্লি যাচ্ছেন না তিনি। ঠিক কি কারণে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর বাতিল হল, তা পরিষ্কার করে জানা যায়নি। এখন আগামী শনিবার নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেবেন কি না নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাজেটে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডি, কর্নাটকের সিদ্ধারামাইয়া, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং সুখুর পাশাপাশি সিপিআইএম শাসিত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিনও বৈঠকে যোগ দেবেন না। এবার কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই পথে হাঁটলেন? উঠছে প্রশ্ন। এদিকে, কংগ্রেস যখন নীতি আয়োগ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় তখন মমতা কিছুটা ক্ষোভের সুরেই জানান, এই সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছে হাত শিবির, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক হিসাবে তৃণমূলকে জানানো হয়নি।

নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগদান ছাড়াও দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি ছিল মমতার। নবান্নের তরফে প্রধানমন্ত্রী দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় যাতে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আলাদা করে একটি বৈঠক আয়োজন করা যায়। এছাড়াও শুক্রবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের সঙ্গে বসার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। দিল্লিতে একটি সর্বভারতীয় সাংবাদিক বৈঠকও করতেন মমতা। লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য নিয়ে সেখানে কথা বলতেন তিনি। এই সব পরিকল্পনাই কিন্তু আপাতত ভেস্তে যাবার মুখে।
কংগ্রেসের পথেই মমতা? দিল্লি যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, নীতি আয়োগে যোগদান ঘিরে অনিশ্চয়তা!
মনে করা হচ্ছে, যেহেতু কংগ্রেস নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক হিসাবে সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তিনি বৈঠকে যোগদানের অর্থ বিরোধী জোটের একতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা। তবে, মমতা যে বৈঠকে যোগদান করবেন না এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি। আগামীকালও দিল্লি যেতে পারেন। এখন, মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



