আদিবাসী ভোট পেতে কী বার্তা দিতে চলেছেন মমতা? LIVE UPDATE পেতে নজর রাখুন নজরবন্দিতে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: আদিবাসী ভোট পেতে কী বার্তা দিতে চলেছেন মমতা? আজ পুরুলিয়া সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন ২১এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রামের আসনটি থেকে লড়তে ইচ্ছুক। এমন ঘোষণার পরের দিন পুরুলিয়া সফরে মমতা। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার হুটমুড়া ফুটবল গ্রাউন্ডে সভায় পৌছছেন মমতা। পুরুলিয়ায়র সভামঞ্চে এসে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত রয়েছেন জেলা নেতৃত্ব। সঙ্গে রয়েছেন সাংসদ শতাব্দী রায়। সেখান থেকে তিনি কী বার্তা দেন সেই দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

শতাব্দীর পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আদিবাসীদের জমি যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে, তার আইন তৈরি করেছি। পুরুলিয়া প্রথম ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী। পুরুলিয়া বহিরগতদের কাছে মাথা নত করেনি। আদিবাসীদের জমি যাতে কেউ কেড়ে না নেয়, তার জন্য আমরা আইন এনেছি। আমরা মানভূমি বোর্ড, বাউরি সংস্কৃতি বোর্ড তৈরি করেছি। বিজেপি মাওবাদীদের থেকেও ভয়ঙ্কর। এরা বাঁশ হয়ে ঢুকবে ফালি হয়ে বেড়োবে।”

বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “শুধু বিজেপিকে চমকাতে পারে, আমরা চমকাতে পারি না তাই। ওদের ভয়ে মিথ্যাটাকে সত্যি করে দিলেন। সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বাস করবে না। বিজেপি ফেক ভিডিও তৈরি করে ছাড়ে। সব জোচ্চুরি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছে বেনামি। সেই সব গ্রুপে কোনও কথাই বিশ্বাস করবেন না। বিজেপি আসলে পুরুলিয়া থাকবে না। মাওবাদীদের থেকে বিজেপি ভয়ঙ্কর। মমতা বলেন, বিজেপি শুধু মিথ্যা কথা বলে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ওরা বিদায় হয়েছে। বিহারে নীতিশ কুমারের সরকার। ওড়িশায় নেই। বাংলায় যা আছে সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে ওরা দেখাচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৫০টা সিট। একটা সংবাদমাধ্যম অমিত শাহের ভয়ে সার্ভে বদলে দিয়েছে। অজগর না কেউটে। কোন বিষাক্ত সাপ বিজেপি। যাকে ধরল, তাকে খেল, হজম করল তারপর পালিয়ে গেল। বিরসা মুণ্ডাকে অপমান করেছেন। একজনের ছবিতে মালা দিলেন। এখানে কানহু মুর্মুর মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল বিজেপি।”

পুরুলিয়া উন্নয়নে মমতা বলেন, ” গুরুচাঁদ ঠাকুর, বিরসা মুণ্ডার জন্মদিবসে ছুটি শুধু নয়, রঘুনাথ মুর্মুর জন্মদিনেও ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা। স্বাস্থ্য বিনা পয়সায় । স্বাস্থ্যসাথী কার্ড প্রতি বছরে রিনিউ করা হবে। আমি আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের জন্য হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করছি। ওরা ধমকালে মুখে প্লাস্টার করে দেবো। আমরা বিনা পয়সা সবাইকে রেশন দিই। জুন মাসে আমাদের সরকার আসলে বিনা পয়সায় রেশন দেওয়া হবে । আমি কোনও কিছুর করার আগে অর্থ দফতরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে থাকি। এক এক জনের অনেক সমস্যা থাকতেই পারে। কেন্দ্রীয় সরকার আশাকর্মীদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি চালু রেখেছি। পুরুলিয়ায় নতুন শিল্প গড়ে উঠবে। দুয়ারে সরকার থেকে ১০ লাখ জন জাতিগত শংসাপত্র পেয়েছে। কৃষকদের আমরা ৫ হাজার টাকা করে দিই। কৃষিজমির খাজনা নিই না। কৃষিবন্ধু প্রকল্পের ১৮-থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কেউ মারা গেলে ২ লাখ টাকা পাবেন। শস্যবিমা শুরু করেছিল। আমরা বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেবো। সেটা পুরুলিয়াও পাবে। বিভেদের রাজনীতি কোনও জায়গা নেই। কর্মতীর্থ করা হয়েছে ২৬টা। ডানকুনি অমৃতসর প্রকল্পে রঘুনাথপুরে আসবে। সেখানে নানারকম শিল্প তৈরি হবে। সাওতালি শিক্ষক ৩১৬ জন নিয়োগ করা হয়েছে। ৫ লাখ আদিবাসী পড়ুয়াকে সবুজ সাথী দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের অনলাইনে পড়াশুনার জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এতে ট্যাব কিংবা মোবাইল কিনে পড়াশুনা চালাতে পারবেন” ।

এদিন সভার শুরুতেই বিজেপিকে আক্রমণ করে শতাব্দী বলেন , “বিজেপি নেতারা জিজ্ঞাসা করবেন জিএসটি টাকা কেন এখনও ফেরত দেয়নি। যে দেশের মানুষ এখনও ১৪০০টাকার দরজায় দরজায় ঘোরে। ১৪ হাজার  বাড়ি বানাতে পারে। সেই দেশে কেন ১৪ হাজার কোটি টাকার সংসদ ভবন তৈরি করা হচ্ছে। কীসের প্রয়োজন নতুন সংসদ ভবনের।” এছাড়াও তিনি বলেন,  “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার জন্য গুজরাটি, মারাঠি, অসমিয়া সবাই আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জেতা দরকার শুধুমাত্র রাজ্যের জন্য নয়, দেশের জন্য। কেন্দ্রের সরকার একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভয় পাই। আমাদের সংসারে অনেক রাগ হয়। হতে পারে কোনও কথা রাগের মুহূর্তের বলা হয়েছে। কিংবা অন্য জায়গার লোক এসে আপনার পরিবারের কাউকে বলবে, আপনি কি তা মেনে নেবেন। অন্য রাজ্যের মানুষ এসে মমতার উপরে কিছু বললে সেটা আমরা মানছি না। মমতাই জিতবে এবারের ভোটে”।

আরও পড়ুন: ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জন্ম হয়নি’, খোঁচা ফিরহাদের

আজ পুরুলিয়ায় মমতা। সোমবার নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই তাঁর মাস্টারস্ট্রোক রাজনীতির পারদটাকে এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে। তবে পুরুলিয়ার মাটিও তাঁর জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জের। কারণ সেখানে তাঁকে লড়াই করতে হবে পুরনো জমি পুনরুদ্ধারের।

২০১৯ সালেই পুরুলিয়ায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তখনই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনের পুরুলিয়া জেলাতে বিরাট চমক দেয় বিজেপি। পুরুলিয়া কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো । ২১ এর বিধানসভা ভোটেও বিজেপির দাবি, পুরুলিয়ার মোট বিধানসভা আসনের সবগুলিতেই তারা জয়লাভ করবে।

আদিবাসী ভোট পেতে কী বার্তা দিতে চলেছেন মমতা? তবে এই মুহূর্তে আরও কিছু কারণে তৃণমূল  কংগ্রেসের স্থান কিছুটা হলেও নড়বড়ে রয়েছে পুরুলিয়ায়। লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন পরেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শান্তিরাম মাহাতোকে। যিনি পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন। এই পদে বসানো হয় আদিবাসী নেতা গুরুপদর টুডুকে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর পুরুলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে কতটা চাঙ্গা হবে সেখানকার ভোটব্যাঙ্ক, সেদিকেই নজর সকলের। তৃণমূল কংগ্রেসও এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট চিন্তিত। পুরুলি আজ মুখ্যমন্ত্রীর পুরুলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে কতটা চাঙ্গা হবে সেখানকার ভোটব্যাঙ্ক, সেদিকেই নজর সকলের। তৃণমূল কংগ্রেসও এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট চিন্তিত। পুরুলিয়াকে বিজেপির হাত থেকে উদ্ধার করতে আজকের মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত