দুপুরেই নন্দীগ্রামের পথে মমতা, আজ কর্মীসভার পর কাল মনোনয়ন পেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুপুরেই নন্দীগ্রামের পথে মমতা, আজ কর্মীসভার পর কাল মনোনয়ন পেশ। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাইভোল্টেজ ম্যাচ হতে চলেছে নন্দীগ্রামে। যেখানে সম্মুখসমরে নামবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একদা তাঁরই শিস্য নন্দীগ্রামের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। সময়ের খেলায় যিনি এখন বিজেপিতে। অন্যদিকে মমতার নেত্রী হয়ে ওঠার আঁতুড়ঘর এই নন্দীগ্রাম। তাই এই হাইভোল্টেজ লড়াই নিয়ে ইতিমধ্যেই তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতি।  শুভেন্দু হাঁক দিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলসুপ্রিমো, বাংলার অগ্নিকন্যাকে তিনি ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে হারাবেন।

আরও পড়ুনঃ দুপুরেই নীলবাড়ির পথে মমতা, আজ কর্মীসভার পর কাল মনোনয়ন পেশ।

অন্যদিকে মমতা শুধু একটি কথাই বলেছেন, ঘরের মেয়ের মতোই ভালবাসা পেতে চান নন্দীগ্রামের মানুষের কাছ থেকে। তাই রাজনীতি ভুলে মমতার আবেগে ভাসছে নন্দীগ্রাম। আজ সেই নন্দীগ্রামে পা রাখতে চলেছেন রাজ্যের সুপ্রিমো মমতা। আজ বিকেলে সেখানে কর্মীসভা করার পর কাল দাখিল করবেন মনোনয়ন। অর্থাৎ আজ রাত কাটাবেন নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে। ঘরের মেয়েকে কাছ থেকে দেখার জন্য উৎসাহে ফুটছে সেখানকার সাধারণ মানুষ। উৎসাহ তুঙ্গে সেখানকার নেতা কর্মীদের মধ্যেও।  নন্দীগ্রামের বটতলা এলাকায় একটি বাড়িতে উঠবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বাড়ির পাশাপাশি বাস করেন যাঁরা, অর্থাত্‍ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রামের অস্থায়ী বাস ভবনের প্রতিবেশী হবেন যাঁরা, সেইসব মানুষরা দিদির আসার অপেক্ষায় !

যে বাড়িতে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই বাড়ি দেখার হিড়িকও পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। মমতা বন্দোপাধ্যায় আসার পর তাঁকে কাছ থেকে দেখা, তাঁর সঙ্গে কথা বলা, ছবি তোলা যাবে কিনা সেই সব ভাবনায় মেতেছে মানুষ। এই নিয়ে খোঁজ খবরও চালাচ্ছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সান্নিধ্য পেলে সেই সুযোগে তাঁকে অনেক কথাও বলতে চান এলাকার মানুষ। তৃণমূল সুত্রে খবর আজ  দুপুরে কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে করে নন্দীগ্রাম পৌঁছবেন মমতা। নন্দীগ্রামে স্টেট ব্যাঙ্কের পিছনের জমিতে তাই একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাডও তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই হেলিকপ্টার থেকে নামবেন তৃণমূল নেত্রী। তার পর পাশের জমিতে ছোট একটি সভা করবেন।

সাধারণ মানুষ তাতে যোগ দিলেও সভার পরিচয় ‘কর্মিসভা’ই রাখা হয়েছে। সভার শেষে সেখানে দলের কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক রয়েছে মমতার। জেলায় ভোট পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাই ওই বৈঠকে থাকবেন। অয়াগামিকাল মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামের একাধিক ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তার পর দলীয় সমর্থকদের নিয়ে পথসভা করে হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন তিনি। তবে নন্দীগ্রাম থেকে হলদিয়া মহকুমা শাসকের দফতর প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। তাই আগামিকালও নন্দীগ্রামে থেকে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দুর ভোটযুদ্ধে অবতারণা, সংখ্যালঘু সমাজকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ, ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত মানুষদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য কোনটাই ভাল ভাবে নিচ্ছেন না নন্দীগ্রামের মানুষ।

দুপুরেই নন্দীগ্রামের পথে মমতা, আজ কর্মীসভার পর কাল মনোনয়ন পেশ। এই প্রসঙ্গে এদিন মুখ খুলেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আবু তাহের খান, যিনি শুভেন্দুর খাস লোক বলে পরিচিত ছিলেন এত দিন। জানিয়েছেন, ‘গত ১০ বছর শুভেন্দুর সঙ্গে ঘুরেছি। এক সঙ্গে আন্দোলন করেছি। সেই লড়াই ভুলে গিয়ে এখন আন্দোলনে যুক্ত সকলকেই ‘জেহাদি’ বলছেন উনি। নন্দীগ্রামের মানুষ তা কখনও মেনে নেবেন না। বিজেপি-তে গিয়ে ধর্মের নিরিখে ভোট বিভাজন করতে চাইছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের মানুষ তা হতে দেবেন না। কারণ, এটা নন্দীগ্রামের সংস্কৃতির পরিপন্থী। দুর্গাপুজো হোক বা কালীপুজো, পুজো, চাঁদা তোলা- সবেতেই থাকেন মুসলিমরা। পুজো কমিটির সদস্য হিসেবেও উত্‍সবে শামিল থাকেন তাঁরা। পুজো উদ্বোধনও করেন। এই সংস্কৃতি যাঁরা ভাঙতে চাইছেন, তাঁরা কখনও নন্দীগ্রামের মানুষের ভাল চাইতে পারেন না। নন্দীগ্রামের মানুষ বুঝেছেন, শুভেন্দু তাঁদের জন্য আন্দোলন করেননি। নিজের লাভ-ক্ষতি হিসেব করেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। তাঁর এই আচরণ কেউই ভাল ভাবে নিচ্ছেন না।’ নন্দীগ্রামের মানুষ এখন তাদের ঘরের মেয়ের অপেক্ষায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত