নজরবন্দি ব্যুরো: প্রচারে নামলেন মমতা কিন্তু কৃতিত্ব সুকান্তর! আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন তিনি। অথচ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মতে, প্রচারে নামলেন মমতা কিন্তু কৃতিত্ব তাঁর। কিন্তু ব্যাপারটা কী?
আরও পড়ুন: ভোট হিংসায় মদত দিতেই মমতার কোচবিহার সফর! বিস্ফোরক সুকান্ত
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “১২ বছর পর পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে আমার এবং গোটা দলের সাফল্য। ১২ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন যে বিরোধী পক্ষ এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই ওনাকে ময়দানে নামতে হচ্ছে। তাও উত্তরবঙ্গ থেকে। আর উত্তরবঙ্গই তৃণমূলকে হারাবে”। পাশাপাশি, সুকান্ত মজুমদার আজ এও বলেন, “বিজেপিকে ভয় পেয়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েতে আরও অশান্তি বাড়াতেই মমতা কোচবিহার গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ফিরে এলেই সেখানে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটবে”।
After 12 years, Mamata Banerjee is coming out for a panchayat election campaign. After 12 years, Mamata is feeling that her opposition has grown really big and strong that she herself will have to campaign.pic.twitter.com/HFhjgLIxBo
সদ্য প্রকাশিত
তৃণমূলের প্রতীক কি কোনও পক্ষই পাবে না? বৃহস্পতিবার ফের শুনানি, কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে জট
আবার বাড়ল সিগারেটের দাম, ৪২৮ টাকা ‘ক্লাসিক কানেক্ট’, ৮৯ টাকা ‘গোল্ড ফ্লেক সুপার স্টার’— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) June 26, 2023
একটা কথা সত্যি, তৃণমূলের বিপক্ষে এখন যদি কোনো দল ধারাবাহিকভাবে লড়াই করে থাকে তার নাম বিজেপি। কারণ, তাঁদের সুযোগ ও সুবিধা দুইই রয়েছে। কেন্দ্রের ক্ষমতা, অর্থের আনুকূল্য আর বাংলার অন্যান্য বিরোধী দলগুলির অস্তমিত অবস্থাই যেন বাড়তি সুযোগ করে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। তাই এখন যে কোনো নির্বাচনের আগে অঙ্ক একটাই, তৃণমূল বনাম বিজেপি। অবশ্য বাকী যারা আছেন অর্থাৎ, বাম-কংগ্রেস তাঁরা যে একেবারে ফসিল হয়ে গিয়েছেন একথা বললে বোধহয় সবটা সত্যি বলা হবে না। লড়াই সব পক্ষই লড়ছে কিন্তু খাতায় কলমে সুযোগ বিজেপিরই বেশী।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ভোট হয়েছিল ৫৮,৬৯২ আসনে, যেখানে বিজেপি প্রার্থী দেয় ২৮,৪৩০ জায়গায়। আর সেখানে এবার ৭৩,৮৮৭ টি আসনের মধ্যে ৫৪,৭৪৯ জায়গায় প্রার্থী দিয়েছে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ, মোটের ওপর প্রার্থীর শতকরা হার বেড়েছে ২৭.৩৯ শতাংশ। ২০১৮ সালে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি আর গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে বিজেপি জিতেছিল মোট ৬,৫৫৮ টি আসন। আসনের নিরিখে জয়ের শতকরা হার ছিল ১১.১৭ শতাংশ। মোট ভোট পেয়েছিল ১৯.০১ শতাংশ। আবার, সেইবার তৃণমূল প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল।

আজ কোচবিহারের সভা থেকে পাল্টা বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গুলি করে মারাটা যেন বিএসএফের অধিকারে পরিণত হয়েছে। বিজেপি কী ভাবছে? একাই শাসন করবে দেশ? ভোটের সময় বিএসএফ নিয়ে ওরা মানুষকে ভয় দেখাবে। মনে রাখবেন আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। ভয় দেখালেই অভিযোগ জানাবেন। ভয়ে গুটিয়ে থাকবেন না। বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বজনহারাদের পরিবারের পাশে থাকবে তৃণমূল”।
প্রচারে নামলেন মমতা কিন্তু কৃতিত্ব সুকান্তর! ব্যাপারটা কী?




