লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, গোটা রাজ্য জুড়ে সবুজ ঝড়। কিন্তু তার মধ্যেও একটা বিষয় কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। সেটা হল, শহরাঞ্চল অর্থাৎ খোদ কলকাতায় তৃণমূলের ভোট কমে যাওয়া। আর সেই কারণে বুধবার সমস্ত পুরনিগমের মেয়র, কমিশনার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: আট রাজ্যে হারের কারণ খুঁজতে কমিটি গড়ল কংগ্রেস, মুকুট-হীন অধীরকে নিয়ে ভাবছেই না হাইকমান্ড!


লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার ৪৮টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বুধবার এই বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায় দমদমের সাংসদ সৌগত রায়কে। তিনি সাফ বলেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের ভোট তৃণমূল পেলেও উচ্চবিত্ত বা বহুতলের বাসিন্দাদের ভোট জোড়াফুলের ঝুলিতে আসেনি। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এটা সত্যি তৃণমূলের কাছে একটা চিন্তার বিষয়।

কিন্তু ঠিক কি কারণে মুখ্যমন্ত্রী এই জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউই। অনেকেরই ধারণা আজকের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিতে চলেছেন কলকাতা শহরের সমস্ত পুরনিগমের মেয়র, পুলিশ কর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের। কারণ বিভিন্ন যে সরকারি প্রকল্প মমতা বন্দোপাধ্যায় চালু করেছেন তা কি সঠিকভাবে শহরাঞ্চলের মানুষদের কাছে পৌঁছচ্ছে না আর না পৌঁছালে তার কারণই বা কি তা জানতে চাইতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতার মেয়র-পুলিশকর্তাদের হঠাৎ তলব, নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা



রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প কেবলমাত্র গরিব বা মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে চালু করা হয়নি। সকল স্তরের সমস্ত মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য। কিন্তু সরকারি কর্মীদের গাফিলতিতে বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণে তা যদি বাস্তবায়িত না হয় সেটা একেবারেই বরদাস্ত করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কলকাতা শহরে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতেই আজকের এই জরুরি বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।







