‘পুলিশের ড্রেস পরে সেন্ট্রাল ফোর্স যদি ছাপ্পা দিতে আসে…’— রুখে দাঁড়ানোর ডাক মমতার

রঘুনাথপুরে সভা থেকে মহিলা ভোটারদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেন্দ্রীয় বাহিনী, এসআইআর ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের মুখে রঘুনাথপুরের জনসভা থেকে সরাসরি মহিলা ভোটারদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “পুলিশের পোশাক পরে কেউ যদি ছাপ্পা দিতে আসে, রুখে দাঁড়াবেন।” শুধু তাই নয়, বাড়ির বেলন নিয়েও প্রস্তুত থাকার ডাক দিয়ে কার্যত ভোটকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

সভা মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ভোটের আগে বাইরের গুন্ডাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা বিজেপির লোকজন ছদ্মবেশে এসে ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মহিলা ভোটারদেরই প্রতিরোধ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে— তাই প্রয়োজন হলে বেলন নিয়েও প্রস্তুত থাকুন।”

বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “তৃণমূলকে চোর বলা হচ্ছে, অথচ দেশ বেচে দেওয়ার চেষ্টা করছে ওরাই।” মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূল পাণ্ডব, আর বিজেপি কৌরবদের দল।” ভোটারদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— তারা কোন পক্ষকে বেছে নিতে চান।

বাংলাকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার অস্তিত্ব ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করতে চাইছে। তাই ভোটে তৃণমূলকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটা ভোটও যেন অন্য কাউকে না যায়।”

এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে বহু মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিবাহের পর পদবি পরিবর্তনের কারণে বহু নারী সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও গ্যাসের দাম, রেলভাড়া বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়িয়ে কেন্দ্র সরকার নিজেদের সুবিধা করছে। নোটবন্দি থেকে আধার— বারবার লাইনে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটা জীবনে কতবার লাইনে দাঁড়াবেন মানুষ?”

সব মিলিয়ে, রঘুনাথপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন— ভোটের লড়াই এবার শুধু রাজনৈতিক নয়, তা হয়ে উঠছে সরাসরি জনসম্পৃক্ত এবং আবেগঘন এক সংঘর্ষ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন