নজরবন্দি ব্যুরোঃ মঙ্গলবার জিটিএর নব নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই পাহাড়ের মানুষের উদ্দেশ্যে একাধিক বার্তা পৌঁছে দেন তিনি। সেই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের কাছে আবেদন করেন, কথা দিন, পাহাড়ের মানুষকে আর অশান্ত হতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুনঃ Covid India: অবশেষে দেশের কোভিড গ্রাফে স্বস্তি, আক্রান্তের সংখ্যা কমলো অনেকটাই
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কথা দিতে হবে পাহাড়কে আর অশান্ত হতে দেবেন না। পাহাড়ে শান্তি থাকলেই পাহাড়ের অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব। আপনারা দেখুন পাহাড়ে যদি একটি হোম স্টে হয়, তাহলে তার আয় কত হয়। আমরা লামাহাটা থেকে হোম স্টে পলিসি শুরু করেছিলাম। দার্জিলিংয়ের ভিতরেই আরও এক নতুন শহর আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। নতুন শহরের অর্থ নতুন শিল্পনগরী। দোকান, সেফ হাউজ, হোম স্টে, সবটাই থাকবে সেখানে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল। ২০১৬ সালে বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিদের পদত্যাগের পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। যার ফলে মুখ থুবড়ে পড়ে পাহাড়ের পর্যটন। একেবারে অচল হওয়ার মুখে অর্থনৈতিক অবস্থাও। মাঝে দুই বছর করোনার কারণে অবস্থা আরও বেসামাল হয় ওঠে। এরপর ২০২২ সালে হল নির্বাচন। সেখান থেকেই পাহাড়ে শান্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আর মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই একই বার্তা মিলল। এদিন তিনি বলেন, পাহাড়ে এত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আগে দেখিনি। পাহাড়ের মানুষ যা পারে তা অনেকেই পারে না। আমার বন্ধুত্ব চাই। ঝগড়া চাই না। আমাদের একটাই লক্ষ্য, পাহাড় ভাল থাক। পাহাড় এগিয়ে থাক। পাহাড়ের হাসি দেখতে চাই। কাঞ্চনজঙ্ঘার হাসি দেখতে চাই। বিশ্বাস রাখবেন।
পাহাড়কে আর অশান্ত হতে দেবেন না, মমতার আবেদন পাহাড়বাসীকে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে অন্তর্ধানে থাকার পর এখন বিমল গুরুং পাহাড়ে ফিরলেও অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়েছেন তিনি। তাই আগামী নির্বাচনে সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলির সহায়তায় পাহাড়ে ঘাসফুল ফোঁটানোর পরিকল্পনা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই অনীত থাপাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন তিনি।



