ভোটের আগে সিউড়ির জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক সুরে বিজেপিকে একের পর এক ইস্যুতে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন—“ভোটের দিন আমরা যদি যোদ্ধা হই, আপনারা কি আমার সহযোদ্ধা হবেন?”—এই বার্তাতেই স্পষ্ট, শেষ ল্যাপের লড়াইকে আরও তীব্র করতে চাইছে তৃণমূল শিবির।
সভায় মমতা অভিযোগ করেন, তাঁর মনোনয়ন ঘিরে অযথা হয়রানি করা হয়েছে। “চার ঘণ্টা স্ক্রুটিনিতে আমাকে জ্বালিয়েছে,”—এই দাবি তুলে তিনি বলেন, এভাবে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তিনি পিছিয়ে আসবেন না।
বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরাসরি চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি ২৯৪ আসনের প্রার্থী হলে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোন—মানুষকে বলুন।” একইসঙ্গে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলেও কটাক্ষ করেন।
মোদীর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মন কী বাত’ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
চাকরি ইস্যুতেও বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, কেন্দ্র ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টে রাজ্য সরকার যখন নিয়োগ করতে যায়, তখন আদালতে মামলা করে সেই প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
এসআইআর প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে একটি ‘বড় ষড়যন্ত্র’ চলছে। তিনি একে ‘বিগ স্ক্যাম’ বলে আখ্যা দেন এবং মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-এর ‘বুলডোজার’ মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, তিনি ‘বুলডোজার রাজনীতি’-তে বিশ্বাসী নন, বরং ভালবাসা ও মানবিকতার রাজনীতিতেই আস্থা রাখেন।
সব মিলিয়ে, সিউড়ির সভা থেকে মমতার বার্তা স্পষ্ট—ভোটের লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আদর্শ ও অস্তিত্বের লড়াই হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।



