নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিহত বাঘের থেকে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর, হুইল চেয়ারে বসে কলকাতার রাজপথ থেকে এভাবেই বিজেপি কে হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে নষ্ট হয়েছে ৫-৬ দিন, আঘাতের কালো দাগ আর ভাঙা পা নিয়েই রোববারের রাজপথে মমতা। উত্থানের ভূমি নন্দীগ্রাম, হোঁচট সেখানেই, আর সেখান থেকেই ফিরে আসার ডাক দিচ্ছেন তৃণমলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জামানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা মাটি মানুষের সরকার। সেই লড়াইয়ে মমতার উত্থানের ভূমি ছিল নন্দীগ্রাম। ২১এর নির্বাচন এই সরকারের তৃতীয় বারের নির্বাচন। এবার জিতলে বাংলায় শাসনের হ্যাট্রিক করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ যাদবপুরে রিঙ্কু নস্কর, গোঘাটে বিশ্বনাথ! দেখুন বিজেপির সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা।
আর এবারও রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আসন হলো নন্দীগ্রাম। প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে এবার নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিপক্ষ তাঁরই একসময়ের সেনানায়ক শুভেন্দু অধিকারী। গত বুধবার নন্দীগ্রামের হয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই আচমকা আহত হন মুখ্যমন্ত্রী। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই অবস্থায় তা আঘাত নাকি দুর্ঘটনা সেই নিয়ে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতির, তখন SSKM এর উডবার্ন বিভাগের সাড়ে ১২নং বেড থেকে শুয়েই কর্মী সমর্থকদের বার্তা দিয়েছিলেন ময়দানে ফিরবেন তিনি।
বাইরে যেন সকলে শান্ত থাকেন আর সংযত থাকেন। সেই বার্তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হুইলচেয়ারে কলকাতার রাজপথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর আজ “নন্দীগ্রাম দিবস”এই তাঁর প্রথম কর্মসূচী। তার আগেই নন্দীগ্রাম দিবস নিয়ে টুইট করেছিলন তিনি। এবার হুইলচেয়ারে বসেই সভা করলেন রোববারের শহরে। হাসপাতাল থেকে ফিরে এই প্রথম জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর। আজকে তিনি কী বার্তা দেবেন তার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন সকল কর্মী সমর্থকরা। মেয়ো রোডের সভা থেকে তিনি বলেন বাংলাকে ঘিরে আগেও অনেক চক্রান্ত হয়েছে। এখনো চলছে। “জীবনে অনেক আঘাত পেয়েছি, মাথা নোয়াইনি।” এভাবেই আগামী দিনেও সব আঘাত নিয়ে মানুষের পাশে থেকে এগিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। এর পরেই সভা করেন হাজরায়।
সেখানে বারবার ধন্যবাদ জানান শুভাকাঙ্খীদের, চিকিৎসকদের। তিনি এও বলেন, চিকিৎসকেরা বেড রেস্ট নিতে বলেছিলেন, কিন্তু তাতে মানুষের পাশে পৌঁছবেন কী করে, তাই ভাঙা পায়েই রাস্তায় নেমেছেন তিনি। মানুষকে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে বলেন, বলেন “ভাঙা পায়েই ঘুরবো, এই ভাঙা পায়েই গোটা খেলা ঘোরাবো” । সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন নিহত বাঘের থেকে আহত বাঘ অনেক ভয়াবহ। শরীরের আঘাতের কালো দাগ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। বাংলার মানুষের পাশে থেকে সব চক্রান্তকে নষ্ট করার জন্য, আর যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি তা করবনে বলেও জানিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি নিজের আগামী সিডিউল জানিয়েছেন। আজকের সভার পর কালই দুর্গাপুর রওনা হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর সভা করবেন পুরুলিয়ায়। এমনিতেই নির্বাচনের ঠিক মুখে মুখে সময় নষ্ট হয়েছে ৫-৬ দিন। আর সময় নষ্ট করতে রাজি নন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার হুইলচেয়ারে বসেই খেলা ঘোরাবেন তিনি।



