নজরবন্দি ব্যুরো: ‘আদিবাসীদের অপমান করছে’, শিয়রে রাজ্যে বিধানসভা ভোট। এদিকে আসন্ন এই নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই জমে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান। সম্প্রতি বোলপুরে রোড শো-তে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি অমিত শাহর রোড শো-তে ভিড় উপচে পড়েছিল। আর ঠিক সেই জায়গাতেই মঙ্গলবার তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদযাত্রা করেন। এদিনের জনস্রোত চোখে পড়ার মতো ছিল।
আরও পড়ুন: জীবনের শেষ অনশন, আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থনে অনশনের ডাক দিলেন আন্না হাজারে।


বীরভূমের রাঙামাটিতে পথ হাঁটলেন তৃণমূল নেত্রী। আর এদিন পদযাত্রার শেষে বিজেপিকে নিশানা করলেন মমতা। কটাক্ষ করলেন অমিত শাহর আদিবাসীর বাড়িতে আহার-পর্বকে। কয়েকদিন আগেই বীরভূমের রোড শো-তে এসে অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন পেয়ে জয়ী হবে। সুযোগ পেলে সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি। আর তাঁর সেই দাবিকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, নতুন করে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখানোর দরকার নেই। সোনার বাংলার স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথই।
এদিন নোবেল-জয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেনকে হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে ফের সরব হয়েছেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ‘কিছুদিন ধরে কুকথায় রবীন্দ্রনাথ-অমর্ত্য সেনকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনের অপমান করা হচ্ছে। বিশ্বভারতীতে ঘৃণ্য রাজনীতির আমদানি করা হয়েছে। ঘৃণ্য-বিদ্বেষমূলক রাজনীতির আমদানি হয়েছে।’
সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে অমিত শাহ আদিবাসী ও তফশিলি জাতিভূক্তদের বাড়িতে আহার সেরেছেন। আর এই ঘটনাকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন মমতা। নাম না করে মমতা বলেছেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একবার চাই ফাইভ স্টারের খাবার। অথচ দেখাচ্ছে আদিবাসী বাড়ির খাবার।’ আর এভাবে আদিবাসীদের বরং অপমানই করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘আদিবাসীদের অপমান করার অধিকার নেই।’


নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেছে, ‘এদের দলীয় পতাকা বহন করে এজেন্সির লোকেরা।’ সেইসঙ্গে কেউ কেউ টাকা ছড়িয়ে ভোট কিনতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, ‘কেউ টাকা দিলে গরিব মানুষ নিয়ে নিন। কিন্তু ভোটে ওদের বিদায় দিন।’
সম্প্রতি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ বিজেপিতে সামিল হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মমতা বলেছেন, ‘টাকা দিয়ে কয়েকটা এমএলএ কিনে নিলে, তৃণমূলকে কেনা যায় না। বিশ্বভারতীর পরিস্থিতি নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘বিজেপির মার্কামারাকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য করে নিয়ে এসেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুরে আমরা এসব করি না।
এছাড়া এদিন তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে চলতি কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে মমতার ভাষণে। তিনি বলেছেন, ‘কৃষকদের আন্দোলন চলছে একমাসের উপর ধরে।’ কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইনকে কৃষকদের স্বার্থবিরোধী বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতা বলেছেন, ‘কৃষকদের জমির ফসল নিয়ে পালিয়ে যাবে, এই ভারতবর্ষ তৈরি করছে বিজেপি। আমার একটাই পরিবার, মানুষের পরিবার, আর কেউ নেই।’
‘আদিবাসীদের অপমান করছে’, তিনি বলেছেন, ‘গ্রামে বহিরাগত দেখলে, পুলিশে খবর দিন। ভো কাট্টা করে বিরোধীদের উড়িয়ে দিন’। সেইসঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলই জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।







