নজরবন্দি ব্যুরো: ‘জীবনের শেষ অনশন’, ঘোষণা করলেন আন্না হাজারে। কৃষকদের দাবি মানা না হলে অনশনে বসতে পারেন বলে হুশিয়ারি দিলেন তিনি। দেশবাসী আন্না হাজারেকে গাঁধীবাদী অনশন আন্দোলনের জন্যই তাঁকে চেনেন। দীর্ঘ আন্দোলন, অনশনের পর কার্যত তাঁর চাপে পড়েই ‘লোকপাল বিল’ পাশ হয়েছিল সংসদে। সেই অন্না হাজারে এ বার দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়ালেন।
আরও পড়ুন: বর্ষবরণের রাতে মুম্বাই-এ জারি ১৪৪ ধারা, করা যাবে না কোন জমায়েত


কৃষকদের আন্দোলনের সুষ্ঠু সমাধান না হলে আগামী বছরে জানুয়ারির শেষেই তিনি ফের অনশনে বসবেন বলে হুশিয়ারী দিলেন ৮৩ বছরের সমাজকর্মী আন্না। মঙ্গলবার রালেগাঁও সিদ্ধিতে নিজের গ্রামে আন্না হাজারে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সরকার শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যার উপর আমার কোনও আস্থা নেই। দেখা যাক, কেন্দ্র আমার দাবিদাওয়া নিয়ে কী ব্যবস্থা নেয়। এক মাসের সময় চেয়েছে সরকার। তাই জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময় দিয়েছি। দাবি না মিটলে ফের অনশন আন্দোলন চালু করব।’’
গত ১৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমরকে একটি চিঠি লিখেছিলেন আন্না। তাঁর দাবি ছিল, এম এস স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশগুলি কার্যকর করতে হবে এবং কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণে ‘কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল কস্ট অ্যান্ড প্রাইসেস’ (সিএসিপি)-কে স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। এই দাবি না মানলে অনশনে বসার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তার পর মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার হরিভাউ বাগাড়ে অন্নার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কেন্দ্রের নতুন ৩টি কৃষি আইন সম্পর্কে তাঁকে ব্যাখ্যা দেন। তার পর গত ৮ ডিসেম্বর কৃষকদের ডাকা বন্ধে সমর্থন জানাতে ১ দিনের প্রতীকী অনশন করেন আন্না হাজারে। এখন জানুয়ারির মধ্যে দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয় কি না, তার উপরেই নির্ভর করছে, আন্নার জীবনের শেষ অনশন।
জীবনের শেষ অনশন, উল্লেখ্য, গত প্রায় ৩ বছর ধরে কৃষকদের স্বার্থে আন্দোলন করে চলেছেন অন্না হাজারে। সরকারকে একগুচ্ছ দাবিদাওয়াও পেশ করেছেন। সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া ৩টি কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। দিল্লির সিংঘু সীমানায় ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা। সেই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আরও এক বার অনশন আন্দোলনকে হাতিয়ার করতে চলেছেন










