ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিয়েই আবেগে ভাসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “এখান থেকেই আমার সব কিছু”—এই বার্তায় এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি কার্যত নির্বাচনী লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন। বিশাল মিছিল, জনসমর্থনের ঢেউ এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আজকের দিনটি ভবানীপুরে পরিণত হল এক রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চে।
বুধবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পরিবারের সদস্য এবং তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাস্তাজুড়ে ভিড় উপচে পড়ে—দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।


মিছিলের আবহ ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাবাহী। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। বহু মহিলা কর্মী শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান, যা পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। ভিড় সামলাতে আগেভাগেই রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেয় পুলিশ, যাতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা সেই মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে দেখেন। আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল, ভবানীপুরের বহুত্ববাদী চরিত্রকে তুলে ধরতেই তাঁর প্রস্তাবকদের তালিকায় থাকবে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব—যা মনোনয়নপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, তৃণমূল নেতা বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তালিকা স্পষ্ট বার্তা দেয়—ভবানীপুরে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’কেই সামনে রেখেই লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল।










