রাজ্য বাজেটে কৃষক–ক্ষেতমজুরদের জন্য বরাদ্দের ঘোষণার পর এবার সরাসরি তাঁদের মুখোমুখি হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কৃষক সমাজকে আশ্বস্ত করতে এবং তাঁদের অভাব–অভিযোগ শোনার লক্ষ্যেই কলকাতায় ডাকা হয়েছে বৃহৎ সম্মেলন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি Netaji Indoor Stadium-এ কৃষক–ক্ষেতমজুর সম্মেলনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের নানা জেলা থেকে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক ও ক্ষেতমজুরকে কলকাতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁদের যাতায়াত, থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপদে নিজ নিজ জেলায় ফেরানোর সমস্ত দায়িত্বই সংগঠনের তরফে নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই জেলা স্তরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই খবর পেয়ে কৃষক সমাজের মধ্যেও খুশির হাওয়া।

এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য একাধিক। একদিকে রাজ্য সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও প্রকল্পগুলি তুলে ধরা, অন্যদিকে সরাসরি কৃষক–ক্ষেতমজুরদের কথা শোনা। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত নতুন আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও এই সভার অন্যতম আলোচ্য। এবারের বাজেটে কৃষকদের বছরে দু’টি কিস্তিতে মোট ৪ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে—যা কৃষিজীবী পরিবারগুলির কাছে বড় স্বস্তি বলে মনে করছে শাসক শিবির।
তৃণমূলের কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের প্রধান পূর্ণেন্দু বসু বলেন, “১৫ ফেব্রুয়ারির এই সম্মেলন শুধু কর্মসূচি নয়, কৃষক সমাজের পাশে থাকার বার্তা। কৃষক ও ক্ষেতমজুররা আমাদের পরিবারের অংশ। তাঁদের সার্বিক উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকার সবসময় পাশে আছে।”
শাসক দলের দাবি, এই মঞ্চ থেকেই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে কৃষকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকদের বঞ্চনার অভিযোগও সামনে আনা হবে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “বাংলা কৃষিপ্রধান রাজ্য। কৃষকদের আয় বাড়াতে শস্যবিমা, কৃষিযন্ত্র কেনার ভর্তুকি-সহ একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। এবারের বাজেটে ক্ষেতমজুরদের আর্থিক সহায়তা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তাই নির্বাচনের আগে এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


ভোটের আগে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের নিয়ে এমন বড় সমাবেশ যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্য বাজেটের প্রতিশ্রুতি ও সরাসরি বার্তার মেলবন্ধনেই কৃষক সমাজের আস্থা আরও দৃঢ় করতে চাইছে শাসক শিবির।








