ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক ঝড় তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। পুরনো এক সরকারি নথিতে বিজেপির প্রতীক-সহ সিলমোহর, আর তার সঙ্গে জুড়েছে মধ্যরাতে ভোটার তালিকা প্রকাশ—দুই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদ Mahua Moitra-র প্রকাশ্যে আনা ২০১৯ সালের একটি চিঠিকে ঘিরেই শুরু বিতর্ক। অভিযোগ, Election Commission of India-এর ওই নথিতে বিজেপির প্রতীক ‘পদ্ম’-সহ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের প্রচারে রওনা হওয়ার আগে সেই নথির প্রতিলিপি দেখিয়ে মমতার প্রশ্ন,
“কমিশনের কাগজে বিজেপির স্ট্যাম্প কেন? পিছন থেকে খেলবেন না, সামনে এসে খেলুন।”
কমিশনের তরফে ঘটনাটিকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বলে ব্যাখ্যা করা হলেও তা মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাল্টা কটাক্ষ—“এটা নিছক ভুল, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?”
🕛 মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশে নতুন বিতর্ক
শুধু নথি নয়, সদ্য প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। সোমবার গভীর রাতে তালিকা প্রকাশ হওয়াকে ঘিরে তিনি সরাসরি স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্য—
- “তালিকা বার করতে এত দেরি কেন?”
- “বিচারকেরা কাজ শেষ করে দেওয়ার পরও বিলম্ব কেন?”
- “মধ্যরাতে প্রকাশ—এর পিছনে কী কারণ?”
তিনি ইঙ্গিত দেন, একতরফাভাবে কোনও রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে।
⚔️ কমিশন–বিজেপি যোগের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে তিনি বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।
“বাম-ডান ভুলে যান, যারা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে, তারা একসঙ্গে আসুন। আমার পাশে না থাকলেও চলবে, মানুষের পাশে থাকুন,”—বার্তা মমতার।
🗣️ পাল্টা সুর বিরোধীদের
মমতার এই আহ্বানে সিপিএম নেতা Sujan Chakraborty পাল্টা বলেন, বিজেপির পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধেও লড়াই জরুরি। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের লড়াই বিজেপি ও তৃণমূল—দু’দলের বিরুদ্ধেই।”
⚖️ আদালত প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি
মমতা দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার ফলেই কিছু নাম ভোটার তালিকায় ফিরেছে। একই সঙ্গে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি—
“এই এসআইআর-ই ওদের শেষ করবে।”
এছাড়াও, তালিকা প্রকাশের পর বুথে বুথে তা ঝোলাতে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা—এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াল তৃণমূল নেতৃত্ব।



