সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত রায় প্রকাশের পরই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন। অন্তর্বর্তী বাজেটের পরে সাংবাদিক বৈঠকে সেই রায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রায় হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল নবান্ন। একই সঙ্গে ডিএ বিতর্কে পেনশন প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, বিষয়টি কেবল অঙ্কের নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতারও।
বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বলেন, রায়ের কপি এখনও রাজ্য সরকারের হাতে এসে পৌঁছয়নি। সম্পূর্ণ রায় পড়ে দেখার আগে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘যে কমিটি গঠনের কথা সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সেখানে প্রাক্তন বিচারপতিরা রয়েছেন। কিন্তু সেখানে পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছি। সেই কমিটির মতামত অনুযায়ীই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

ডিএ বিতর্ককে আরও বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে রেখে পেনশন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার প্রশ্নে অনেকেই খরচের দিকটি তুলে ধরছেন, কিন্তু রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও ভাবতে হবে। ‘‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। পশ্চিমবঙ্গে যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তা অন্য কোথাও নেই। চাইলে পেনশন বন্ধ করলে অনেক টাকা বাঁচত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তাঁরা কী করবেন?’’—প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করার প্রশ্ন নেই, তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপে কমিটির সুপারিশই যে মূল ভিত্তি হবে, সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ ছিল, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বেঁধে দিয়েছে সময়ও। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। তবে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বর্তমানে যে ৪০ শতাংশ ডিএ-র ফারাক, তার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের নির্দেশের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিল, তা পুরনো বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত মামলাতেই।








