বারুইপুরকাণ্ডে ব্যারিকেড ভেঙে মোমবাতি মিছিল মমতার, আটকাতে পারল না কেন্দ্রীয় বাহিনী!

রবিবার রাতে বাড়ি ঘিরে রাখার অভিযোগ, সকালে সরানো হয় পুলিশ; বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল করে বার্তা দিলেন মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়ে সোমবার বিকেলে সরাসরি রাস্তায় নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কালীঘাটের বাসভবনের সামনে থেকে হাতে মোমবাতি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন তৃণমূল (TMC) নেত্রী। অভিযোগ, গলির মুখেই তাঁর মিছিল আটকাতে ব্যারিকেড তৈরি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সেই বাধা উপেক্ষা করেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান তিনি। ‘তোমার সুর আমার সুর, জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কালীঘাট চত্বর।

মিছিলে নামার ঠিক আগে এক্স (X) হ্যান্ডেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বেনজির আক্রমণ শানায় তৃণমূল। দল লেখে, “মিস্টার শুভেন্দু অধিকারী, আপনি এক চরম ভণ্ড! যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) মণিপুরে (Manipur) যাওয়ার সময় পাননি, তেমনই আপনার নজরদারিতে বারুইপুরে একটি ছোট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হল, তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় আপনি পেলেন না।” তৃণমূলের অভিযোগ, নির্যাতিতার বাবা-মাকে প্রথমে ভবানী ভবনে গিয়ে ‘অমানবিক, অনুভূতিহীন ও ব্যর্থ’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। দলের তোপ, “এখন শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আগামীকাল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন, কারণ আজ তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত!”

বারুইপুরকাণ্ডে ব্যারিকেড ভেঙে মোমবাতি মিছিল মমতার, আটকাতে পারল না কেন্দ্রীয় বাহিনী!
বারুইপুরকাণ্ডে ব্যারিকেড ভেঙে মোমবাতি মিছিল মমতার, আটকাতে পারল না কেন্দ্রীয় বাহিনী!

এই মিছিলের পটভূমি তৈরি হয়েছিল রবিবার রাতেই। তৃণমূল সূত্রে অভিযোগ, হঠাৎ করেই কালীঘাটে মমতার বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বারুইপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া আটকাতেই বিজেপির (BJP) নির্দেশে এই ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে বলে দাবি করে তৃণমূলের আইটি সেল। ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ উগরে মমতা বলেন, “আমি যখন ঘটনাটি শুনেছি, খুব উদ্বিগ্ন। ভগবানপুর, পটাশপুর, কোচবিহার, দুর্গাপুর, বেহালা, দিনহাটা, পানিহাটি— অনেক জায়গায় মেয়েরা ধর্ষিতা হয়েছে। আজ বারুইপুরের ঘটনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে একাই যাব ভেবেছিলাম। কিন্তু বাড়ির সামনে প্রায় ১০০০ পুলিশ, সিআরপিএফ (CRPF), গুন্ডা দমন পুলিশ জমায়েত হয়েছে। এটা হাউস অ্যারেস্টেরই প্রমাণ।”

তবে রবিবার মধ্যরাত থেকেই ছবি বদলাতে শুরু করে। সোমবার সকালে কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ন্যূনতম নিরাপত্তা বহাল রেখেই কেন্দ্রীয় বাহিনী অবস্থান নেয়। রবিবারই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মমতা। আর সোমবার বিকেলে ব্যারিকেড ভেঙে তাঁর এই মোমবাতি মিছিল বুঝিয়ে দিল, বারুইপুরকাণ্ডে সুবিচারের দাবিতে আরও সোচ্চার হতে চলেছে কালীঘাট। রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে শুভেন্দু সরকারকে চাপে ফেলতে এটাই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন