প্রথমবারের জন্য তৃণমূলের শহিদ সমাবেশে অংশ নিলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সম্প্রতি শিল্পপতি মুকেশ অম্বানির ছেলের বিয়েতে যোগ দিতে মুম্বই যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দু’জনের সাক্ষাৎ হয়। অখিলেশকে একুশে জুলাই কলকাতায় আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি। দিদির ডাকে সাড়া দিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সকালে তিনি কলকাতায় এলেন, বক্তব্য রাখলেন তৃণমূলের অনুষ্ঠানে। আর এই মমতা-অখিলেশ যুগলবন্দি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে। এই খবর সম্প্রচারিত হয়েছে সর্বভারতীয় স্তরেও। ফলে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা এনডিএ শিবিরের কপালে বাজেট অধিবেশনের আগে কিছুটা হলেও ভাঁজ পড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
মমতা ও অখিলেশ বিজেপির বিজয় রথ সদ্য সমাপ্ত লোকসভায় অনেকটা রুখে দিয়েছেন, এ কথা রাজনৈতিক মহলে অনেকেই অকপটে স্বীকার করে থাকেন। বাংলা ও উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ফলাফল একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। আজ বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দু’জনের নাম নেন। বাংলায় মাত্র ১২ আসন পেয়েছে বিজেপি। কমেছে ৬টি আসন। উত্তরপ্রদেশেও এক ধাক্কায় এনডিএ-এর আসন কমেছে ৩০টি, সেখানে সমাজবাদী পার্টি আগের চেয়ে ৩৬টি আসন বেশি পেয়েছে।

আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। ভিজতে ভিজতেই বক্তব্য চালিয়ে যান মমতা। বিন্দুমাত্র বিচলিত হননা। কেবল চশমাটা খুলে রাখেন। তিনি বলেন, ‘‘২১ জুলাই একটু বর্ষা তো হবে। এটা ঈশ্বরের আশীর্বাদ। শহিদের চোখের জল। এই জল দেখে ভয় পাবেন না।’’ কিন্তু, মমতার সঙ্গেই মঞ্চে বসে ‘কাক-ভেজা’ হলেন অখিলেশও। হাসিমুখেই। কুণাল ঘোষ আগেই বলেছিলেন, অখিলেশ মমতাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন, মমতাও স্নেহ করেন অখিলেশকে। সব কিছুরই প্রমাণ দিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম দুই শরিক।

ধর্মতলায় মমতা-অখিলেশ যুগলবন্দি, দিল্লিতে থরহরিকম্প মোদি শিবিরে!
অখিলেশ এদিন বক্তব্যে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াকু নেত্রী। এই ব্যাপক জনস্রোত দেখে আমি অবাক। যেদিকে তাকাচ্ছি শুধু কালো মাথা। বিজেপি আমাদের হারানোর জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। পারেনি। এই লড়াই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। দিল্লির সরকার বেশিদিন থাকবে না। আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। কর্মীরাই দিদির দলের অস্ত্র। বিজেপি শহিদ ভাড়া করে। আর দিদি এতদিনের পুরনো অতীতকেও মনে রাখেন।” মমতাও অখিলেশকে গুরুত্ব দিলেন। সভার শেষে সমাজবাদী পার্টির নেতার হাত তুলে ধরলেন লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে।

সব মিলিয়ে, এবারের একুশের জুলাই স্মরণীয় হয়ে থাকল দুই নেতার যুগলবন্দিতে। অভিষেকও কম গেলে না। মমপ্তার বক্তব্যের মধ্যেই বৃষ্টি থেমে রোদ উঠল। নেত্রী বললেন, এভাবেই দুর্যোগ কাটে, একদিন দেশের দুর্যোগও কাটবে। আমাদের জানা নেই অখিলেশ এই ভেজা জামা-কাপড় পড়েই উত্তরপ্রদেশ ফিরে গেলেন কিনা! কিন্তু, ‘ইন্ডিয়া’ জোট কংগ্রেসকে ছাড়াঈ যে শক্তিপ্রদর্শন করল তাতে মোদি বা অমিত শাহের ধোপদুস্তর পোশাক টেনশনের ঘামে ভিজে যায়নি তো? এর উত্তর ওই ফেলুদার ভাষায় ‘মা গঙ্গাই জানেন’!



