নজরবন্দি ব্যুরোঃ নির্বাচনের আগে প্রতিদিন লাগাতার সভা মিছিল চালাচ্ছে শাসক-বিরোধী সহ সকল দল। তাঁর মধ্যেই আজ বর্ধমানের একাধিক জায়গায় সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনের প্রথম ভাগেই সভা করেন কালনায়। এবং সেখনাএর ভরা সভা মঞ্চ থেকেই নিজের দলের দলীয় কর্মীদের দোষ ত্রুটি ধরে সমালোচনা করেছেন। আর এসবের মধ্যেই নাম না ধরে তুলোধোনা করেছেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানকারী স্থানীয় বিধায়ক বিশ্বজিত কুণ্ডুকে।
আরও পড়ুনঃ বুদ্ধদেবের আস্থাভাজন IPS হুমায়ুন যোগে শক্তিবৃদ্ধি তৃণমূলের!
নির্বাচনের আগে পাল্লা দিয়ে বেশ ভালরকম দলবদলের খেলা দেখছে গোটা রাজ্যও। আর এই হিড়িক শহুরু হয়েছে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। শুভেন্দু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই মূলত রাজ্যে শুরু হয়েছে দলবদলের এই নয়া ট্রেন্ড।গত ১৯সে ডিসেম্বর শুভেন্দুর হাত ধরেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। এবার তাঁরই অঞ্চলে সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই দিক থেকে বিশ্বজিতের প্রতি কোন কড়া বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী সেটা প্রত্যাশিত ছিলই। এবার তাঁর অঞ্চলে গিয়ে নাম না করেই তুলোধোনা করেছেন মমতা। পদ্মবনে ঝাঁপ দেওয়ার আগে থেকেই ঘাসফুল শিবিরের মধ্যে থাকাকালীনই বিশ্বজিতের নামে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছিল। বিশেষ করে প্রাথমিকের টেটে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর নামে।
আজ সভামঞ্চ থেকে মমতা জানিয়েছেন দুর্নিতিতে নিজেকে কালিমালিপ্ত করেছিলেন তিনি।সেসব থেকে বাঞ্ছতেই বাকিদের মতো বিজেপিতে গিয়েছেন। তাতে অবশ্য আক্ষেপ নেই তৃণমূল সুপ্রিমোর। তিনি মনে করছেন যে সন্তান মায়ের প্রতিপালনে বড়ো হয়ে মায়ের সময়ে মাকে ছেড়ে চলে যায় সেসব কু সন্তান্দের দরকার নেই কোন। তিনি এও জানান এসব দুর্নিতি গ্রস্ত দুস্টু গরুর থেকে শুন্য গয়াল ভালো।
তাতে পাপের হাম্বা হাম্বা ডাক শুনতে হয়না। নবদ্বীপকে হেরিটেজ শহর হিসেবে ঘোষণা করার পর আজ সভামঞ্চ থেকে কালনাকে মন্দির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। ধর্মের নামে বিজেপিকে তোপ দাগার পরই তিনি আবার বলেন এসব পাপী মানুষদের বিজেপির রাখুক। নির্বাচনের আগে তৃণমূল সুপ্রিমোর স্পষ্ট বার্তা, যাঁরা রাজ্যের জন্য কাজ করেনা, তাঁদের পক্ষে থাকবেনা মুখ্যমন্ত্রী। যদি কাজ করে মানুষের জন্য তবেই পাওয়া যাবে ভোটের টিকিট। অন্যায় করলে সোজা কান মুলে দেবেন তিনি।



