নজরবন্দি ব্যুরো: নজর নির্বাচনের টিকিটে! কয়েকদিন আগেই বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছিল আপাতত বন্ধ থাকবে পদ্মবনে প্রবেশের দরজা। সেই থেকে সাধারণ মানুষও ভেবেছিলেন তাহলে আপাতত বন্ধ থাকছে রাজ্যে দলবদলের খেলা। কিন্তু প্রায় উল্টো ঘটনা ঘটছে গোটা রাজ্য জুড়ে। অভিনেতা থেকে নেতা, বিজেপিতে এখনো বেশ জোরকদমে চলছে প্রবেশ। আজই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা যশ সহ টলিপাড়ার একঝাঁক অভিনেতা, অভিনেত্রী।
ফের তৃণমূল ভেঙে বিজেপিতে যোগ দিলেন মালদার দাপুটে নেতা ইয়াসিন। কলকাতা এসে ১৩ টি পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান নিয়ে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি। আর এক্ষেত্রে ফের একবার সামনে এলো শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দল। মালদায় বেশ চর্চায় ছিল সমীর মুখার্জী এবং শেখ ইয়াসিন এর কোন্দল।
২০১৬ তে মালদার রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন কংগ্রেস নেতা সমর মুখার্জী। পরে তিনিই যোগ দেন তৃণমূলে। আর তারপর থেকেই চরমে ওঠে দুজনের কোন্দল। ইয়াসিন রতুয়ার দাপুটে নেতা, কংগ্রেস থেকে সমীর বাবু তৃণমূলে আসার পর থেকেই দুজনের মনমালিন্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে। বিবাদ বেড়ে গিয়ে একাধিক বার দুজনে দুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন।
শাসক দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব নতুন নয়, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশে বার বার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে দলকে। জেলা তৃণমূলে ইয়াসিনের সাংগঠনিক ক্ষমতার প্রশংসা ছিল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবকটি আসন জিতেছিল তৃণমূল, এবং সেখানে অভূতপূর্ব ফলের জন্য সকলেই ইয়াসিনের প্রশংসা করেছিলেন প্রকাশ্যেই।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রচার। সেই মত রতুয়াতেও শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার। সমর মুখার্জী এবং শেখ ইয়াসিন দুজনেই নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে শুরু করেছিলেন সভা, মিছিল। স্থানীয় মানুষও ভাবছিলেন এবারের নির্বাচনের টিকিট পাবে ইয়াসিন। এই আশায় গত তিনদিন ধরে রতুয়া বিধানসভার ১৩টি পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানদের নিয়ে কলকাতায় অবস্থানও করছিলেন তিনি।
তবে বিধানসভায় টিকিট পাচ্ছেন না শুনে আজ সোজা বিজেপিতে যোগদান করেন সকলকে নিয়ে। এমনিতেও সূত্রের খবরে মালদহে তৃণমূলের পায়ের তলা মাটি সরেছে অনেক দিন আগেই। শুধু টিকে থাকতে পারতো রতুয়ায়। দলবদলের পর মালদহ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অজয় গাঙ্গুলি জানান, ইয়াসিন বিজেপিতে আসায় নিশ্চিত ভাবে বিজেপির সংগঠন মজবুত হলো রতুয়ায়।
নজর নির্বাচনের টিকিটে! এমনিতেও মালদহে শুধু একটি বিধাসিভায় তৃণমূল জিততে পারতো, এবার সেই গুড়েও বালি পড়লো বলে মনে করছেন তিনি। তবে ইয়াসিন গেলেও তাতে খুব একটা ফলাফলের পার্থক্য দেখছেনা তৃণমূল।



