মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্র আবারও রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। একসময় ‘পরিবর্তন’-এর ঢেউ তুলে বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস যে আসন দখল করেছিল, সেই কেন্দ্রেই এখন তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ—উত্তরাধিকার রক্ষা নাকি নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা। দাস পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রভাবের পাশাপাশি নতুন মুখ শুভাশীষ দাসকে সামনে রেখে তৃণমূলের কৌশল, আর সংগঠনের স্তরে সামিম আহমেদের সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মহেশতলা এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি আয়োজিত জনসভা ও ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। কো-অর্ডিনেটর সামিম আহমেদ জানিয়েছেন, মানুষের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন তাঁকে আশাবাদী করছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উন্নয়নমুখী রাজনীতির বার্তা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার অঙ্গীকার।


নববর্ষের প্রেক্ষিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছরকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করা হচ্ছে। ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর আদর্শকে সামনে রেখে সংগঠন এগিয়ে চলবে—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
দাস পরিবারের স্মৃতি, সামিমের সংগঠন—মহেশতলায় নীরব অগ্নিপরীক্ষা শুভাশীষের! প্রকাশিত হল ইস্তেহার

মহেশতলায় তৃণমূলের শক্ত ভিত গড়ে ওঠে ২০১১ সালে, যখন কস্তুরী দাস প্রায় ২৪ হাজার ভোটে জয়ী হন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৬-তেও জয় আসে। তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে দুলালচন্দ্র দাস আসন ধরে রাখেন এবং ২০২১ সালে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। ফলে এই কেন্দ্র ধীরে ধীরে দাস পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহেশতলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড—বিশেষত ১৩ ও ১৫ নম্বরে বিজেপি এগিয়ে ছিল। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এই অবস্থায় শুভাশীষ দাসের জন্য যেমন আসন্ন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তেমনই সংগঠনকে মজবুত রাখার দায়িত্বে থাকা সামিম আহমেদের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উত্তরাধিকার ধরে রেখে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই লড়াইয়ে মহেশতলার ফলাফল এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।








